top of page

অগ্নি-বীণার শতবর্ষ

Updated: Feb 16

আমরা ২০২১ ও ২০২২ সালে জাতীয় জীবনের অনেকগুলো মাহেন্দ্রক্ষণ অতিক্রম করেছি। ২০২১ সালে আমরা পার করেছি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ, বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের শতবর্ষ। ২০২২ সালে আমরা অতিক্রম করেছি বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের শতবর্ষ, অর্ধ-সাপ্তাহিক ধূমকেতুর শতবর্ষ, নজরুল কর্তৃক ভারতবর্ষের পূর্ণ স্বাধীনতা ঘোষণার শতবর্ষ, নজরুলের গ্রেফতারের শতবর্ষ, অগ্নি-বীণার শতবর্ষ ইত্যাদি।

শতবর্ষ আগে আমরা ছিলাম না। শতবর্ষ পর আজ আমরা আছি বলেই আমরা আমাদের ইতিহাসের মাহেন্দ্রক্ষণগুলোকে অনুধাবন ও উদযাপন করার সুযোগ পাচ্ছি। বিশেষত, প্রাণের কবি কাজী নজরুল ইসলাম যেমনটি বলেছিলেন—বন্ধু গো তোল শির, তোমারে দিয়াছি পতাকা মোদের বিংশ শতাব্দীর—নজরুল প্রদত্ত সেই পতাকাকে সমুন্নত রাখার জন্যেই বোধ হয় আমরা আছি।

আজি হ'তে শত বর্ষ আগে

কে কবি, স্মরণ তুমি ক'রেছিলে আমাদেরে

শত আনুরাগে,

আজি হ'তে শত বর্ষ আগে।

আজি মোরা শত বর্ষ পরে

যৌবন-বেদনা-রাঙা তোমার কবিতাখানি

পড়িতেছি অনুরাগ-ভরে ।

জড়িত জাগর ঘুমে শিথিল শয়নে

শুনিতেছি প্রিয়া মোর তোমার ইঙ্গিত গান

সজল নয়নে।

….

১৯২২ থেকে ২০২২—ঠিক শতবর্ষ পর আজ আমরা পরম শ্রদ্ধার সাথে, মুগ্ধতার সাথে, বিনম্র চিত্তে, কৃতজ্ঞতার সাথে উদযাপন করছি কবির অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি ‘অগ্নি-বীণা’ প্রকাশের শতবার্ষিকী।

অগ্নি-বীণা প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে। ২৫শে অক্টোবর বইটি সরকারী দফতরে রেজিস্ট্রি হওয়ার জন্য পৌঁছে। আর্য পাবলিশিং হাউস থেকে বইটি প্রকাশিত হয় (কার্তিক ১৩২৯, ২০০০ কপি)। প্রকাশনা সংস্থাটির মালিক ছিলেন অরবিন্দ ঘোষ (১৮৭২-১৯৫০)। ১৯১০ সাল পর্যন্ত তিনি ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের এক প্রভাবশালী নেতা। এরপর তিনি আধ্যাত্মিক সংস্কারকে পরিণত হন। নজরুল তাঁর অগ্নি-বীণা উৎসর্গ করেন অরবিন্দ ঘোষের সহোদর বারীন্দ্র কুমার ঘোষ (১৮৮০-১৯৫৯) কে।

অগ্নি-বীণার দ্বিতীয় সংস্করণও প্রকাশ করে আর্য পাবলিশিং হাউস (আশ্বিন ১৩৩০, ২০০০ কপি)। তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেন ১০ সায়েন্স লেন, তালতলা, কলিকাতার নূর লাইব্রেরি, পাবলিশার-এর মঈন উদ্ দীন হোসায়ন, বিএ (অগ্রহায়ণ ১৩৩১, ২২০০ কপি)। ৩য় সংস্করণ প্রকাশ করে ডিএম লাইব্রেরি।

বইয়ের মুখবন্ধে কবি উল্লেখ করেন যে, বইটির প্রচ্ছদপটের পরিকল্পনাকারী চিত্রকর-সম্রাট শ্রীযুক্ত অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং প্রচ্ছদের ছকি এঁকেছেন তরুণ চিত্রশিল্পী শ্রী বীরেশ্বর সেন। কবি আরও লিখেন:

‘ধূমকেতুর পুচ্ছে জড়িয়ে পড়ার দরুণ যেমনটী চেয়েছিলাম, তেমনটী করে অগ্নি-বীণা বের করতে পারলাম না। অনেক ভুল-ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা রয়ে গেল। সর্বপ্রথম অসম্পূর্ণতা, যেসব কবিতা ও গান দেবো বলে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম, সেইগুলি দিতে পারলাম না। কেননা সে সমস্তগুলি দিতে গেলে বইটি খুব বড় হয়ে যায়, আর ছাপানো ইত্যাদি খরচ এত বেশি পড়ে যায় যে, এক টাকায় বই দেওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। পূর্বে যখন বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম,তখন ভাবিনি যে, সমস্ত কবিতা গান ছাপতে গেলে তা এত বড় হয়ে যাবে, কেননা আমার ব্যবসা-জ্ঞান কোনো দিনই ছিল না, আজও নেই।……’

স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে যে, একদিকে ১৯২২ সালে নিজের সম্পাদনা ও মালিকানায় অর্ধ-সাপ্তাহিক ধূমকেতু পত্রিকা প্রকাশের মহাযজ্ঞ এবং অপরদিকে বইটি পাঠকদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা—এ দুটি কারণে বইয়ের কলেবর তিনি বড় করেননি। 

অগ্নি-বীণা কবির ১২ টি কবিতার সমাহার, এই ১২টি কবিতা ঠিক যেন- দ্বাদশ রবির বহ্নি-জ্বালা, একেকটি কবিতা একেকটি রবি, একেকটি সূর্য—যেগুলো পঁচা বাসি জীর্ণ অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীকে সংস্কার করে সর্বমানবের বিজয় কেতন উড়িয়ে একটি নতুন পৃথিবীর গড়বার প্রত্যয়ে আবির্ভুত হয়েছে। প্রথম কবিতা ‘প্রলয়োল্লাস’ এ কবি যেন ঠিক তেমনটিই জানান দিচ্ছেন:

দ্বাদশ রবির বহ্নি-জ্বালা ভয়াল তাহার নয়ন- কটায়,

দিগন্তরের কাঁদন লুটায় পিঙ্গল তার ত্রস্ত জটায়।

বিন্দু তাহার নয়ন জলে/সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে/কপোল-তলে।

বিশ্ব-মায়ের আসন তারি বিপুল বাহুর' পর-

হাঁকে ঐ "জয় প্রলয়ংকর!"

তোরা সব জয়ধ্বনী কর!/তোরা সব জয়ধ্বনী কর!

মাভৈঃ, মাভৈঃ!

জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে।

জরায় মরা মুমুর্ষদের প্রান-লুকানো ঐ বিনাশে।

এবার মহা নিশার শেষে

আসবে উষা অরুণ হেসে করুণ বেশে।

চারিদিকে অত্যাচার, উৎপীড়ন, নিপীড়ন, নির্যাতন, মানুষে মানুষে বৈষম্য, মজলুমের হাহাকার নজরুল মানসে অনিবার্য এক বিষজ্বালা তৈরি করেছিল। সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাঁর মধ্যে সব সময় এই জ্বালা অনুভূত হয়েছে। পরবর্তীকালে কবি তাঁর আমার কৈফিয়ত কবিতায় তা অপার্থিবভাবে ব্যক্তও করেছেন:

          বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে!

দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।

রক্ত ঝরাতে পারি না ত একা,

তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা,

বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে!

অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে! 

কবি সকল অন্যায়ের মূলোৎপাটন করে সকলের বাসযোগ্য একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ার মহানব্রত নিয়ে পৃথিবীতে আসেন। বিধাতা যেন ঠিক এ দায়িত্ব দিয়েই তাঁকে পাঠিয়েছিলেন, যেমনটি প্রেমেন্দ্র মিত্র লিখেছেন:

বিধাতার এক সুর

করেছিল বুঝি পথভুল,

তারই নাম জানি নজরুল।

মলিন মাটির দেশে সে সুরের দেখেছি আগুন,

দিকে দিকে অনির্বাণ শিখা,

তাহারে বরিতে আজ মহাকাল আপনার হাতে

আঁকে জয়টিকা।

নজরুলের প্রথম প্রকাশিত কাব্য-গ্রন্থ অগ্নি-বীণার প্রথম কবিতাতেই কবি সগৌরবে জানান দিলেন তাঁর আগমনী বার্তা, তাঁর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্তব্য। পরাধীনতার নাগপাশে ক্লিষ্ট-পিষ্ট, আত্মবিশ্বাসহীন, সম্বিতহারা জাতির ভাগ্যাকাশে তাঁর আগমন ব্রিটিশ-অনুগত দাস হিসেবে নয়, বরং জাতির সত্যিকারের ত্রাণকর্তা এক মহান শাহানশাহের মতো। শুধু ভারতবর্ষ নয়, গোটা পৃথিবীর মুক্তির মহাভার এককভাবে নিজ স্কন্ধে নিয়েই যেন তাঁর আগমন যার বয়ান তাঁর নিজের জবানীতেই রয়েছে:

          আমি চির-বিদ্রোহী বীর

          আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির। 

অগ্নি-বীণা নজরুলের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এই একটি মাত্র গ্রন্থের মাধ্যমেই বাংলা সাহিত্যে সূচিত হল নতুন যুগের, বাংলা কাব্যে রাজাধিরাজের ভূমিকায় আবির্ভূত হন কাজী নজরুল ইসলাম। বইটির শেষ পাতায় ‘অগ্নি-বীণা সম্বন্ধে অভিমত’ শিরোনামে কয়েকটি মূল্যায়ন মুদ্রিত হয়। নজরুল মানস এবং তাঁর অগ্নি-বীণাকে উপলব্ধি করতে এ মূল্যায়নগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পরবর্তীকালে নজরুল-রচনাবলিতে এ গুলো আর মুদ্রিত হয়নি। আমি মনে করি, স্বয়ং নজরুলের হাত ধরে অগ্নি-বীণা যেভাবে মুদ্রিত হয়েছিল, তা থেকেই কোনো কিছুই বর্জন করা সঙ্গত নয়। কারণ এগুলো অমূল্য সম্পদ।

অগ্নি-বীণার ১২ টি কবিতা গ্রন্থবদ্ধ হবার আগে মোসলেম ভারত, বিজলী, প্রবাসী, ধূমকেতু প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রথম কবিতা ‘প্রলয়োল্লাস’ ১৩২৯ জ্যৈষ্ঠের প্রবাসী এবং ১৩২৯ আষাঢ়ের নারায়ণ এ প্রকাশিত হয়।

দ্বিতীয় কবিতা ‘বিদ্রোহী’ ১৩২৮ কার্তিকে ২য় বর্ষের ৩য় সংখ্যক মোসলেম ভারত, ১৩২৮ সালের ২২ শে পৌষের সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ এবং ১৩২৮ মাঘের ‘প্রবাসী’তে প্রকাশিত হয়।

তৃতীয় কবিতা ‘রক্তাম্বরধারিণী মা’ কবির নিজের সম্পাদিত ধূমকেতু পত্রিকার ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ৫ ভাদ্র ১ম বর্ষ ৪র্থ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

চতুর্থ কবিতা ‘আগমনী’ ১৩২৮ আশ্বিনের ‘উপাসনা’য় প্রকাশিত হয়। পুনর্মুদ্রিত হয় ধূমকেতু পত্রিকায় ১৩২৯ সালের ৯ আশ্বিন সংখ্যায়। উপাসনা সম্পাদক শ্রীসাবিত্রীপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায় এ কবিতাটি প্রসঙ্গে লিখেন:

নজরুলের এক বিশিষ্ট দিকের কবিতা ‘শাত-ইল-আরব’ যখন ‘মোসলেম ভারতে’ প্রকাশ হয়, ঠিক সেই সময়ে হিন্দুর দেব-দেবী নিয়ে প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় উপাসনায়—‘এ কি রণ-বাজা বাজে ঝনঝন…’

অগ্নি-বীণার ১২টি কবিতার মধ্যে প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, আগমনী, রক্তাম্বরধারিণী মা—এই ৪টি কবিতায় সকল অন্যায়,  অত্যাচার,  অবিচারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ উচ্চারিত হয়েছে সাহিত্যের সর্বোচ্চ নান্দনিকতায়। এর মধ্যে আগমনী ও রক্তাম্বরধারিণী মা সম্পূর্ণরূপে হিন্দু দেব-দেবী ও মিথ-নির্ভর জাগরণী কবিতা।

অপরদিকে কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-ইল-আরব, খেয়া-পারের তরণী, কোরবানী, মোহররম—এই কবিতাগুলো মুসলিম জাগরণের প্রাণসসস্পর্শী মহত্তম সৃষ্টি।

কেবল বীণা বাজিয়ে জাতির মুক্তি মিলবে না-সেই সত্য উপলব্দি করেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। জাতিকে মুক্ত করতে, পৃথিবীকে নতুন করে গড়ে তুলতে তাই নজরুল বাজিয়েছেন অগ্নি-বীণা। এই অগ্নি-বীণার প্রয়োজনও ছিল অনস্বীকার্য। নজরুলকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে যেমনটি বলেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

“কাব্যে অসির ঝনঝনা থাকতে পারে না, এসব তোমাদের আবদার বটে। সমগ্র জাতির অন্তর যখন সে সুরে বাঁধা, অসির ঝনঝনায় যখন সেখানে ঝংকার তোলে, ঐকতান সৃষ্টি হয়, তখন কাব্যে তাকে প্রকাশ করবে বৈকি। আমি যদি আজ তরুণ হতাম তাহলে আমার কলমেও ঐ সুর বাজত।”

নজরুল যুগের চাহিদাকে পূরণ করেছিলেন, যুগ-যুগান্তের সঞ্চিত ব্যথা য়ে অভিযান ঘোষণা করেছিল সেই অভিযানদলের সেনানায়ক ছিলেন নজরুল। আর তাই তো তিনি ছিলেন সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি। এ বিষয়ে কবিগুরুর মন্তব্য—‘যুগের মনকে যা প্রতিফলিত করে, তা শুধু কাব্য নয়, মহাকাব্য’।

নজরুলের অগ্নি-বীণা কবিগুরুর ভাষায় বলতে হয় মানবমুক্তির এক ‘মহাকাব্য’। কবিগুরু তাঁর এই গানে যেন অগ্নি-বীণার এই কবির উদ্দেশ্যেই লিখছেন:

অগ্নিবীণা বাজাও তুমি কেমন ক'রে!

          আকাশ কাঁপে তারার আলোর গানের ঘোরে ॥

তেমনি ক'রে আপন হাতে   ছুঁলে আমার বেদনাতে,

          নূতন সৃষ্টি জাগল বুঝি জীবন-'পরে ॥

বিপিনচন্দ্র পাল লিখেন:

কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার সঙ্গে পরিচিত হইয়া দেখিলাম এ তো কম নয়। এ খাঁটি মাটি হইতে উঠিয়াছে।

আগেকার কবি যাঁহারা ছিলেন তাঁহারা দোতলা প্রাসাদে থাকিয়া কবিতা লিখিতেন। রবীন্দ্রনাথ দোতলা হইতে নামেন নাই। কর্দমময় পিচ্ছিল পথের উপর পা পড়িলে কেবল তিনি নন, দ্বারকানাথ ঠাকুর পর্যন্ত শিহরিয়া উঠিতেন। …..নজরুলের কবিতায় গ্রামের ছন্দ, মাটির গন্ধ পাই। দেশে যে নূতন ভাব জন্মিয়াছে তাহার সুর পাই। তাহাতে পালিশ বেশি নাই; আছে লাঙলের গান, কৃষকের গান।…মানুষে মানুষে একাত্ম সাধন এ অতি অল্প লোকেই করিয়াছে। কাজী নজরুল ইসলাম নূতন যুগের কবি।

নজরুলের অগ্নি-বীণার ১২ ‍টি কবিতার প্রতিটি কবিতার উপর আলাদা আলাদা করে বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে-যা এখানে করা সম্ভব হ’ল না। লেখার শেষ পর্যায়ে গ্রন্থটির উৎসর্গ পত্র নিয়ে দু’টি কথা বলতে চাই। কবি ‘ভাঙা বাঙলার রাঙা যুগের আদি পুরোহিত, সাগ্নিক বীর শ্রীবারীন্দ্রকুমার ঘোষ’-কে গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছেন। তিনি ছিলেন নজরুলের দৃষ্টিতে দুর্বাসার মতোই তেজের ভাণ্ডার। কিন্তু কদম্ব শাখের বংশী ধ্বনি ‍শুনে তিনি বৈষ্ণব সাধক হয়ে গিয়েছিলেন। নজরুলের জীবনেও আমরা এমনটিই লক্ষ্য করি। বিদ্রোহীরূপে যাঁর আগমন, সুরসাধকরূপে তাঁর প্রস্থান। অগ্নি-বীণার উৎসর্গপত্রটি যেন কবির নিজের জীবনেরই ভূমিকা।

অগ্নি-বীণা কাব্যগ্রন্থটি শ্রীবারীন্দ্রকুমার ঘোষ-এর মতো একজন মহান স্বাধীনতা যোদ্ধা ও পরবর্তীতে আধ্যাত্মিক সাধককে উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে কবি নিশ্চয়ই আমাদেরকে এ বার্তাটিই প্রদান করে গেছেন যে, বিপ্লবী, বিদ্রোহী, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এবং সৌন্দর্য ও সুরের সাধক বা অনুরাগী না হলে অগ্নি-বীণা পাঠ হবে অর্থহীন।


মো. জেহাদ উদ্দিন

(নজরুল গবেষক, উপসচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার)

 


Comments


পাঠক নিবন্ধন ফর্ম​

জমা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ!

লেখা প্রদানের জন্য মেইল করুন

banglakotha2011@gmail.com

©2025 by Banglakotha

Bangladesh

bottom of page