অনিরুদ্ধ এক পাঠশালা চাই।। আহমেদ ফরিদ
- বাঙলাকথা
- Aug 21, 2022
- 1 min read
শেষ তক কোন কিছুই পাঠ করা শেষ হয়ে উঠে না আর না কাব্য,না গল্প,না উপন্যাস,মনের ভিতরে থাকা দূরন্ত সন্যাস বারে বারে ডাকে, উকি দেয়,পাঠ করো প্রভুর নামে আর যা কিছু আছে এ অনন্তধামে,অন্তরীক্ষে কিংবা জলে স্থলে পাঠ করো মাতালের মতো,সোম রসে মত্ত হয়ে। আসলে কিছুই হয় না পড়া, ঘুণে পোকারা সব কুড়ে কুড়ে খায় দাসের এ জীবন কেনো সবস্ব হারায়?ভিখীরীর থালা হাতে কার সে করুনা মাগে?মিলে নাতো মাধুকরী, শুধু হায় হায়। হিজল,তমাল কেনো জলে ভাসে, পলাশেরা কেনো হাসে, নক্ষত্ররা কেনো উঁকি দেয়? কিছুই হয়না জানা, কিছুই হলো না। প্রজাপতিদের ডানার লেখা গুলো পাঠ করা হলো না আমার ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরের ভাষাটাও জানা নেই। আর,আজও তো হলো না খোলা সেই চিঠি,নীলখামে পুরা চিঠি যে কিশোরী লিখেছিল মায়ার অন্জন দিয়ে,নৈশব্দের শব্দ দিয়ে যত্নে তুলে রেখে দিয়েছিলাম,ভাজ পড়ে গেছে হয় তো বা হয়তোবা লোনা জলে ধুয়ে গেছে তার সোনালী হরফ গুলো আহা! হৃদয়ে পুরে রাখা চিঠি , নীল লেফাফায় কী ছিল তোমাতে? একদা কামিনী কাঞ্চন এক নধর অধর জোড়া উপহার দিয়ে বলেছিল কোন এক মহা শিল্পীর আকা চঞ্চুর ভাষাটা তাকে পড়ে দিতে হবে তাম্বুলচচিত আর রাগ কিংবা অনুরাগে সিক্ত সেই অধরের অনুবাদ হয়ে আছে বরবাদ। অনক্ষর আমি তার ভাষা জানা নেই। অধরের ভাষা নাকি অধরেই পঠনের অলিখিত এক রীতি হয়ে আছে! আহা! অধর, তোমার মুরতি, শুকনো গোলাপের পাঁপড়ি হয়ে আজও পড়ে আছ। হয় তো বা জল সিঞ্চনে তাজা করে নেব একদিন, তারপর পড়ে নেব ,বুঝে নেব কী আছে সেখানে লীন। এ জগতে কোথাও কী আছে কোন এক পাঠশালা যেখানে রয়েছে বিস্তর গ্রন্থ ,প্রতি পাতা, প্রতি পাঠ খোলা? যেখানে সময় থেমে আছে, নৈশব্দই হয়ে আছে শব্দের পাহারা খৈয়ামের ছাত্র হয়ে রয়ে যাব,আহা! কোথা সেই পাঠশালা!
কবি: অতিরিক্ত সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়
Comments