আজকের ভুমিকম্প!!! ইসলাম কি বলে।। ডক্টর মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন
- বাঙলাকথা
- Nov 26, 2021
- 2 min read
জীবনে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প দেখেছি। ব্যতিক্রম হল আজ। একদিকে ঘুমের ঘোরে!! অপরদিকে এতটা দীর্ঘস্থায়ী। কি করব ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না? মনে মনে বলছিলাম, ‘হে আল্লাহ তোমার সাহায্য ব্যতিত কি করতে পারি? তুমি ক্ষমতাশীল, ক্ষমা তোমার কাজ!’ না এইসব ভাবতে গিয়ে সমাধান পাচ্ছিলাম না। মনেহল গতি আরো বেড়েই চলেছে!! কতটা তুচ্ছ! নগন্য আল্লার ক্ষমতার কাছে? অথচ আমরাই কত ক্ষমতাবান! অবশেষে দীর্ঘ ভূমিকম্পের শেষ হল!! কিন্তু মাথাটা এখন স্থির করতে যে শক্তি পাচ্ছি না। হে খোদা তুমি ক্ষমা ভালোবাস আমাদের ক্ষমা করে দাও- আবূল ইয়ামান (রহ.) আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবি [সা.] বলেছেন, কিয়ামত কায়েম হবে না, যে পর্যন্ত না ইল্ম উঠিয়ে নেওয়া হবে, অধিক পরিমাণে ভুমিকম্প হবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং হারজ বৃদ্ধি পাবে। (হারজ অর্থ খুনখারাবী) তোমাদের সম্পদ এত বৃদ্ধি পাবে যে, উপচে পড়বে। [সহিহ বুখারি] পবিত্র কোরানের একাধিক আয়াতে বলা হয়েছে যে, জলে স্থলে যে বিপর্যয় সৃষ্টি হয় তা মানুষেরই কৃতকর্মের ফল। আল্লাহপাক মানুষের অবাধ্যতার অনেক কিছুই মাফ করে দেন। তারপরও প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়। কোরান নাজিল হওয়ার পূর্বেকার অবাধ্য জাতি সমূহকে আল্লাহপাক গজব দিয়ে ধ্বংস করেছেন। সে সবের অধিকাংশ গজবই ছিল ভুমিকম্প। ভুমিকম্প এমনই একটা দুর্যোগ যা নিবারন করার মতো কোন প্রযুক্তি মানুষ আবিষ্কার করতে পারে নাই। এর পূর্বাভাষ পাওয়ার মতো কোন প্রযুক্তিও মানুষ আজ পর্যন্ত আবিষ্কার করতে পারেনাই। হাদিস শরীফেও একাধিকবার বলা হয়েছে যে, মানুষের দুষ্কর্মের জন্যই ভুমিকম্পের মতো মহা দুর্যোগ ডেকে আনে। কুরআন এবং হাদিসে আদ, সামুদ, কওমে লুত এবং আইকার অধিবাসীদের ভুমিকম্পের দ্বারা ধ্বংস করার কাহিনী বিভিন্ন আঙ্গিকে বর্ণনা করা হয়েছে। কখনও ভেবেছেন———!!! সামান্য এই ভূমিকম্পেই সম্পদের মায়া ছেড়ে আমরা রাস্তায় নামছি। এটা যখন আরো বাড়বে, তখন সম্পর্কের মায়াও ছেড়ে দেবো আমরা। নিজেকে বাচানোর চেষ্ঠায় ব্রতী হবো সবাই। যখন তা রচাইতেও আরো বাড়বে তখন যেই মা দুধ খাওয়াচ্ছেন তিনিও তার বাচ্চাকে ছুড়ে ফেলে দেবেন, গর্ভের শিশুকেও বের করে দেবেন। ভূমিকম্পের সময় কে কি অবস্থায় ছিলাম, কে টের পেয়েছে, কে টের পায়নি, চেয়ার টেবিল নড়ছিলো কিনা, ফ্যান দুলছিলো কিনা- এই সব গবেষণা পরে করলেও হবে। আগে করা দরকার তওবা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। সবচেয়ে বড় কথা হল, এটি আল্লাহ কর্তৃক একটি নিদর্শন। যাতে করে মানুষ স্বীয় অপরাধ বুঝতে সক্ষম হয়। ফিরে আসে আল্লাহর পথে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আন্তরিকতার সাথে তওবা করার তাওফিক দান করুন। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি চাইলে এক সেকেন্ডে সব শেষ করে দিতে পার!! আমরা তোমার কল্যাণ, রহমত ও ক্ষমার দিকেই তাকিয়ে আছি। আমাদের-আমাদের পরিবার ও প্রিয়জনদের ক্ষমা করে দাও।। তোমার রহমত দ্বারা আমাদের ভুল গুলোকে ক্ষমা কর।। আমিন——
Comments