top of page

আনন্দের দিন ।। মোঃ জেহাদ উদ্দিন


১ জুলাই আমার আনন্দের দিন, যদিও বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে 'আনন্দ' শব্দটি লিখতে এখন হাত কাঁপে। তবুও তো আমাদের চলতে হবে, এগিয়ে যেতে হবে।


শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রথম আনন্দ হল, আজ আমাদের প্রাণপ্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, এখন শতবর্ষী আমাদের প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়।

“১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণায় পূর্ব বঙ্গের মুসলমানেরা অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়। তাদের দৃষ্টিতে বঙ্গভঙ্গ রদ ছিল তাদের অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা। ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ তাঁদের অসন্তোষের কথা উপলব্ধি করে তা প্রশমনের জন্য ঢাকায় আসেন। নওয়াব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ, নওয়াব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, এ.কে ফজলুল হক ও অন্যান্য নেতা সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দল ভাইসরয়-এর সাথে দেখা করে তাঁদের আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন এবং এতদঞ্চলের মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার জন্য তাঁকে অনুরোধ জানান। বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁরা ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জোরালো দাবি উত্থাপন করেন।” (বাংলাপিডিয়া)

ঔপনিবেশিক শাসনামলে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি ছিল ভারতের সবচেয়ে বড় প্রদেশ। এ প্রদেশেই ছিল ভারতের রাজধানী তথা কলকাতার অবস্থান। মুসলমানদের কাছ থেকে ভারতের শাসন ক্ষমতা তথা ভারতের স্বাধীনতা সূর্য কেড়ে নেয়ার পর ব্রিটিশরা তাদের এদেশীয় শুভাকাঙ্খীদের সহযোগিতায় মুসলিম শাসনামলের সবকিছুই বিভিন্নভাবে পরিবর্তন বা ধ্বংস করতে থাকে। নতুন রাজধানী হয় কলকাতা। দিল্লী, মুর্শিদাবাদ পরিণত হয় অগুরুত্বপূর্ণ এবং অনেকটাই বিরাণভূমিতে। যে ভারত এক সময় সম্পদের প্রাচুর্যে বিদেশীদের জাদুর মতো আকৃষ্ট করত, পশ্চিমারা তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে যে ভারতে ঝাঁকে ঝাঁকে আসত, সেই অন্নদা-সুত ভারত ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণে পিষ্ঠ হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ল। ভারতের অর্থ-সম্পদের বদৌলতে ইউরোপে শিল্প বিপ্লব হতে লাগল, আর এখানে স্থানে স্থানে শুরু হল দুর্ভিক্ষ। আঘাতটা অনিবার্য কারণেই সবচেয়ে বেশি এল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা/প্রদেশসমূহের উপর। সেই সময়ের মুসলিম-ইংরেজ সম্পর্ক, স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের জন্য মুসলমানদের প্রাণান্তকর একক প্রচেষ্টা এবং সেই কারণে তাদের উপর আপতিত জুলুম নির্যাতন পৃথিবীর যে কোন বিভীষাকাময় উপাখ্যানকে হার মানাবে। এ বিষয়ে সামান্য একটু ধারণা পেতে হলে সেই সময়ের ঔপনিবেশিক শাসকদের নির্দেশে তাদেরই একজন কর্মকর্তা WW Hunter এর The Indian Musolmans (বাংলা অনুবাদ: আবদুল মওদুদ) এবং ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণকারী উপমহাদেশের বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার আল্লামা ফজলে হক খায়রাবাদীর কাফনের কাপড়ে লেখা (বাংলা অনুবাদ: ১৮৫৭ আযাদী আন্দোলন, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান) পড়া যেতে পারে। উল্লেখ্য, আল্লামা খায়রাবদী ছিলেন দিল্লীর প্রধান বিচারপতি। তিনি রায় দিয়েছিলেন, ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম করা ফরজ। স্বাধীনতা চাওয়ার অপরাধে তাঁকে আমৃত্যু নির্বাসন দেয়া হয় আন্দামানে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তারঁ কাফনের কাপড়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস লিখে যান। বইটি ব্রিটিশরা বাজেয়াপ্ত করেছিল। ভারত স্বাধীন হবার পর মাওলানা আবুল কালাম আজাদের উদ্যোগে ভারতের পার্লামেন্ট বইটির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।

ব্রিটিশ-ভারতের রাজধানী কলকাতায় স্থাপিত হলেও এতে পূর্ব বাংলার কোন কাজ হল না। বরং পশ্চিম বঙ্গ কর্তৃক পূর্ব বঙ্গের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ইংরেজদের আনুকূল্যে পশ্চিম বঙ্গে এমন এক শ্রেণির জমিদার ও উচ্চবিত্তের আবির্ভাব ঘটে যাদের আয়-উপার্জনের চারণভূমি ছিল পূর্ববঙ্গ। তারা এই এলাকার জমিদার হিসেবে এখানকার সম্পদ শোষণ করে কলকাতায় বিত্ত-বৈভব গড়ে তুলেছিল। তাদের এবং ইংরেজদের অব্যাহত অর্থনৈতিক শোষণের যাঁতাকলে পূর্ব বাংলার ঐশ্বর্যের রূপটি শীঘ্রই ম্লান হয়ে পড়ে। এরই অনিবার্য ফলশ্রুতিতে এই অঞ্চলে ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের মতো ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নেমে আসে। না খেয়ে মারা যায় ৩ কোটির মধ্যে ১ কোটি মানুষ।

১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর পার্টিশন অব বেঙ্গল বা বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ছিল পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশের সৃষ্টি হয় যা ছিল এই অঞ্চলের মুসলিম, নিম্নবর্ণের হিন্দু ও অন্যান্য জাতি-গোষ্ঠির জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। নতুন প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা। নতুন দিনের স্বপ্নে বিভোর হয় নতুন প্রদেশের জনগণ।

কিন্তু বিক্ষোভে ফেটে পড়ে পশ্চিম বঙ্গের সেই জমিদার শ্রেণি ও বিত্তবানরা। বঙ্গভঙ্গ বাতিলের জন্য তারা সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন থেকে শুরু করে হেন কোন কাজ নাই যা তারা করে নাই। তাদের আয়-উপার্জন বা শোষণের চারণভূমি পূর্ববঙ্গকে কোনভাবেই তারা হাতছাড়া করতে চাইছিল না।

"১৯০৩ সালের শেষ দিকে মূল প্রস্তাবাবলি প্রকাশিত হলে তা অভূতপূর্ব বিরোধিতার উদ্রেক করে, বিশেষত প্রভাবশালী শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর হিন্দুদের মাঝে। প্রস্তাবিত ভূখণ্ডগত বিন্যাস বিরাজমান স্বার্থযুক্ত দলসমূহের ওপর আঘাত হানে এবং ফলস্বরূপ তাদেরকে এর বিরোধিতায় প্ররোচিত করে। কলকাতার আইনব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করে যে, নতুন প্রদেশ সৃষ্টির অর্থ হবে ঢাকায় আপিল কোর্টের প্রতিষ্ঠা এবং তাদের নিজস্ব হাইকোর্টের গুরুত্ব হ্রাস। সাংবাদিকদের ভয় ছিল যে, স্থানীয় সংবাদপত্রসমূহ প্রকাশিত হলে কলকাতা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র ও সাময়িকপত্রগুলির প্রচার-সংখ্যা সীমিত হয়ে পড়বে। কলকাতার ব্যবসায়ী সম্প্রদায় মনশ্চক্ষে অবলোকন করছিল যে, ব্যবসায়-বাণিজ্য কলকাতা থেকে যৌক্তিকভাবে অধিকতর নিকটবর্তী ও সুলভ বন্দর চট্টগ্রামে স্থানান্তরিত হবে। পূর্ব ও পশ্চিম উভয় বাংলায় বিরাট ভূ-সম্পত্তির অধিকারী জমিদারগণ আগেভাগে বুঝতে পেরেছিলেন যে, ঢাকায় আলাদা জীবনযাত্রা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে, যার অর্থ অতিরিক্ত খরচের বোঝা।"(সুফিয়া আহমেদ, বাংলাপিডিয়া)

বঙ্গভঙ্গ রদ করার জন্য পশ্চিমবাংলার হিন্দু জমিদার ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির আন্দোলন ও কট্টর অবস্থানের যে চেহারাটি মুসলিম নেতৃবৃন্দ প্রত্যক্ষ করলেন, তাতে তাদের নতুন বোধোদয় হল। তারা নিশ্চিত হলেন মুসলমানদের অধিকার আদায়ের কাজটি আর কংগ্রেসের মাধ্যমে সম্ভব হচ্ছে না। তাই ১৯০৬ সালে তারা গঠন করলেন নিখিল ভারত মুসলিম লীগ।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার আন্দোলনকারীদের কাছে নতি স্বীকার করে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ বা বাতিল ঘোষণা করে। রাজা পঞ্চম জর্জ তাদের জন্য এই খুশির বার্তা ঘোষণা করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশরাজকে অভিনন্দিত করলেন। রাজা পঞ্চম জর্জের উদ্দেশ্যে লিখলেন “জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে” গানটি যা পরবর্তীতে ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা পায়। অপরদিকে বঙ্গভঙ্গ রদের জন্য আন্দোলনকারীদের উজ্জীবিত করতে ১৯০৬ সালে তাঁর লেখা “আমার সোনার বাংলা” পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা লাভ করে। একই ঘটনার এপিঠ-ওপিঠ নিয়ে লিখে একজনের লেখা দু’টি সঙ্গীত দুটি দেশের জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদালাভের ঘটনা পৃথিবীতে বিরল।

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ ও ১৯১১ সালে তা রদ বা বাতিলের ঘটনা এবং এর ফলাফল অল্প পরিসরে আলোচনা করা সম্ভব নয়। তবুও খানিকটা আলোচনা এখানে করার কারণ হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বঙ্গভঙ্গ রদের কারণে। বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ায় পূর্ববাংলার মুসলমানদের মধ্যে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল তা প্রশমন করতে মুসলিম নেতৃবৃন্দের দাবির মুখে ঔপনিবেশিক সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য হয়েছিল। অবশ্য এরও বিরোধিতা করেছিল বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতাকারীরা।

১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণায় পূর্ব বঙ্গের মুসলমানেরা অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়। তাদের দৃষ্টিতে বঙ্গভঙ্গ রদ ছিল তাদের অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা। ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ তাঁদের অসন্তোষের কথা উপলব্ধি করে তা প্রশমনের জন্য ঢাকায় আসেন। নওয়াব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ, নওয়াব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, এ.কে ফজলুল হক ও অন্যান্য নেতা সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দল ভাইসরয়-এর সাথে দেখা করে তাঁদের আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন এবং এতদঞ্চলের মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার জন্য তাঁকে অনুরোধ জানান। বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁরা ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জোরালো দাবি উত্থাপন করেন।

১৯১২ সালের ৪ এপ্রিল প্রেরিত এক পত্রে ভারত সরকার কর্তৃক ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত ভারত সচিব অনুমোদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার বঙ্গীয় সরকারকে সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাবসহ একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা পেশ করতে বলে। ঢাকায় আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ব্যাপারে ভারত সরকারের আগ্রহের কথা সরকারি সিদ্ধান্তে জোর দিয়ে বলা হয়। শহরের কলেজসমূহ কেন্দ্রীয় ধাঁচের এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত থাকবে, কিন্তু শহরের বাইরের কলেজগুলি এর আওতাভুক্ত হবে না।

নাথান কমিশন ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য ১৯১২ সালের ২৭ মে বঙ্গীয় সরকার কর্তৃক গঠিত কমিশন। তেরো সদস্য বিশিষ্ট কমিশনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন আর. নাথানিয়েল, বার-অ্যাট-ল’। অন্যান্য সদস্য ছিলেন বাংলার গণশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক জি.ডব্লিউ কুচলু, কলকাতা হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট রাসবিহারী ঘোষ, নওয়াব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, নওয়াব সিরাজুল ইসলাম, ঢাকার জমিদার ও উকিল আনন্দচন্দ্র রায়, আলীগড়ের মুহম্মদ আলী, কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যক্ষ এইচ.আর জেমস, ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ডব্লিউ.এ.টি আর্চবোল্ড, কলকাতা সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ সতীশচন্দ্র আচার্য, ঢাকা জগন্নাথ কলেজের অধ্যক্ষ ললিত মোহন চ্যাটার্জী, কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক সি.ডব্লিউ পীক ও ঢাকা মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট শামসুল উলামা আবু নসর মুহম্মদ ওহীদ। ডি.এস ফ্রেজার এ কমিটির সেক্রেটারি নিযুক্ত হন।

নাথান কমিটি অত্যন্ত দ্রুততা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে। ২৫টি বিশেষ সাব-কমিটির পরামর্শ নিয়ে ১৯১২ সালের হেমন্তে বঙ্গীয় সরকারের কাছে কমিটি তার রিপোর্ট দাখিল করে। কমিটি সুপারিশ করে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী চালিত এবং সরকারি অর্থায়নে পুষ্ট একটি রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। গণশিক্ষা বিভাগের পরিচালক হবেন এর সরকারি পরিদর্শক; সমস্ত কলেজ ও সমস্ত বিভাগ পরিদর্শনের পূর্ণ ক্ষমতা তাঁর থাকবে। এ পরিকল্পনা থেকে বোঝা যায় যে, ঢাকায় আবাসিক ও শিক্ষাদান কার্যক্রম সম্বলিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে। কলেজ হবে এর একটি ইউনিট এবং তাতে শিক্ষা ও আবাসিক সুবিধাদি থাকবে। প্রতিটি কলেজে ছাত্রসংখ্যা ৬০০-এর মধ্যে সীমিত থাকবে। সাতটি কলেজ মিলে ২৮৯৯ জন ছাত্রের থাকা ও লেখাপড়ার সুযোগ থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত অন্য ছয়টি কলেজ হলো ঢাকা কলেজ, জগন্নাথ কলেজ, মোহাম্যাডান কলেজ, উইমেন্স কলেজ, বিত্তবানদের জন্য টিচার্স কলেজ। মোহাম্যাডান কলেজ ইসলামি শিক্ষা প্রদান করবে। কলা ও বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর শিক্ষাসহ বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং, আইন ও চিকিৎসা বিভাগ খোলার সুপারিশ করেছিল নাথান কমিটি। নাথান কমিটির পরিকল্পনায় ইসলামি শিক্ষা বিভাগ একটি বিশেষ স্থান অধিকার করেছিল। এ বিভাগ পুনর্গঠিত মাদ্রাসা ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাদান করবে।

নাথান কমিটি ইতোমধ্যে স্থাপিত ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল স্কুলকে কলেজে উন্নীত করার প্রস্তাব করেছিল। এ দুটি কলেজ হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বিভাগ। একইভাবে ইডেন গার্লস স্কুলকে কলেজে রূপান্তরিত করা হবে; অন্যদিকে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গ। স্কুল পরিদর্শন ও সেগুলিকে স্বীকৃতিদানের বিষয়টি হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এখতিয়ারভুক্ত।

নাথান কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আচার্য, উপাচার্য, সমাবর্তন ও কাউন্সিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে। বাংলার গভর্নর হবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। সরকার কর্তৃক উপাচার্য নিযুক্ত হবেন এবং তিনিই হবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী। বিশ সদস্যের একটি কাউন্সিল থাকবে; এতে চেয়ারম্যান হবেন উপাচার্য এবং এ কাউন্সিল-ই হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নির্বাহী সংস্থা।

সমাবর্তন ও কাউন্সিল-এ মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। রমনায় অবস্থিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম সরকারের সিভিল স্টেশন সংলগ্ন ৪৫০ একর জায়গা নিয়ে পরিকল্পিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস স্থাপনের প্রস্তাব করে নাথান কমিটি।

১৯১৩ সালে কমিটির রিপোর্ট প্রকাশিত হয় এবং একই বছরের ডিসেম্বরে তা ভারত সচিবের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় এবং তার ফলে সরকারের ব্যয়-সংকোচনের কারণে নাথান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়ে। অবশ্য পরবর্তীকালে একটি সংশোধিত পরিকল্পনা পেশ করা হয় এবং তা ভারত সরকার ও ভারত সচিব উভয়েরই অনুমোদন লাভ করে এবং ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়। [রচনা চক্রবর্তী, বাংলাপিডয়া]

এবার আসি নিজের কথায় আসি। আমি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৯৩-৯৪ সেশনের ছাত্র। অর্থাৎ ১৯৯৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ভর্তি হই। আমার বিভাগ ছিল আইন বিভাগ। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগ। তবে তখন তা ছিল ২ বছরের কোর্স। ১৯৭৩ সাল থেকে চালু হয় চার বছর মেয়াদি অনার্স। অবশ্য অন্যান্য বিভাগে অনার্স ছিল তিন বছর মেয়াদি। আমরা যখন চার বছর মেয়াদি অনার্স করেছি, তখন অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা তিন বছরে অনার্স শেষ করেছে। তারা আমাদের চেয়ে এক বছর আগেই শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারত। পরবর্তীতে অবশ্য সকল বিভাগেই চার বছরের অনার্স চালু হয়েছে। এক্ষেত্রে আইন বিভাগ অনেক এগিয়ে-সেই ১৯৭৩ সাল থেকে। তবে এক বছর বেশি সময় নিয়ে অনার্স করতে হলেও আমাদের সময় সেশন জট না থাকায় কোন অসুবিধা পোহাতে হয়নি। কিন্তু আমাদের পরিবারেই আমার মেজো কাকাকে দেখেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন ‘এরশাদ ভেকেশন’ নামক এক অনিবার্য যন্ত্রণায় তাদের শিক্ষাজীবন কত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাকার সুবাদে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছি এবং সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে রাত্রিযাপন করেছি আমার শৈশবে যখন আমার প্রাইমারি শিক্ষাজীবনই শুরু হয়নি। যে বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রথম দেখেছি শিক্ষা জীবন শুরুর আগেই, সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরবর্তীতে আইন শাস্ত্রে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে আইনজীবী হয়েছি, বিসিএস কর্মকর্তা হয়েছি, সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার সুযোগ পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ছাত্র হিসেবে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছিল আমার ঠিকানা। এই হলটিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নেই প্রতিষ্ঠিত হয়। এমন একটি হলে থাকার সুযোগ পাওয়াও গর্বের বিষয়। আবার যে আইন শাস্ত্রে আমি পড়াশোনা করেছি, সেই আইন বিভাগেরও রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই আইন বিভাগেরই ছাত্র ছিলেন। আমাদের এই আইন বিভাগের সামনেই জাতীয় শহীদ মিনার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনেই চিরশয্যায় শায়িত আছেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর সক্রিয় জীবনের সাথেও রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামূল্যবান অনেক স্মৃতি। তিনি বারবার ছুটে এসেছেন এখানে। ছাত্র-শিক্ষকদের সাথে সময় কাটিয়েছেন, তাদেরকে পথনির্দেশ প্রদান করেছেন। এই সবই আমাদের পরম আনন্দের বিষয়।


নওয়াব সিরাজুল ইসলাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান হিসেবে আজ আমার বাড়তি আনন্দের দিন। আর তা হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ১৩ সদস্যের যে নাথান কমিশন গঠন করা হয়েছিল তার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতিসন্তান নওয়াব সিরাজুল ইসলাম। তাঁর সম্পর্কে কিছু তথ্য বাংলাপিডিয়া থেকে উদ্ধৃত করছি:

নওয়াব সিরাজুল ইসলাম (১৮৪৫-১৯২৩)। আইনজীবী ও সমাজ সেবক। তিনি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নবীনগর উপজেলার পিয়ারাকান্দিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা কাজী মুহম্মদ কাজেম কোম্পানি আমলে একজন সদর আমিন (রাজস্ব বিচার কর্মকর্তা) ছিলেন। ১৮৬৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে বি.এ পাস করার পর সিরাজুল ইসলাম ঢাকার বিখ্যাত আর্মেনীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পোগোজ স্কুল-এর সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বি.এল ডিগ্রি লাভ করে তিনি ১৮৭৩ সালে কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন। ১৮৮৫ সালে তিনি সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশনএর সহকারী সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর আগে ১৮৭৫ সালে তিনি কলকাতা পৌরসভার কমিশনার ছিলেন। সিরাজুল ইসলাম ১৮৯৩ ও ১৯০২ সালে বঙ্গীয় আইন পরিষদে মনোনীত সদস্য ছিলেন। তিনি বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল এডুকেশন্যাল কনফারেন্সের অবৈতনিক সদস্য ছিলেন। সে সময় জনমত গঠনে এই সংস্থা প্রভাবশালী ফোরাম হিসেবে কাজ করেছিল। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে সরকার মনোনীত সদস্যও ছিলেন।

সিরাজুল ইসলাম প্রথম থেকেই বঙ্গভঙ্গ এর বিরোধী ছিলেন। ১৯০৪ সালে কলকাতায় সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সভায় তিনি বঙ্গভঙ্গের নিন্দা করেন। পরবর্তী সময়ে এই বিষয়ে তাঁর মতের পরিবর্তন ঘটে। স্বীয় সমাজ ও ব্রিটিশ রাজের প্রতি তাঁর অবদানের জন্য ১৯১১ সালে তাঁকে সরকার ‘নওয়াব’ উপাধি প্রদান করে। এর পূর্বে ১৮৮৭ সালে তিনি ‘খান বাহাদুর’ খেতাব পান। নাথান কমিশন এর (১৯১২) সদস্য হিসেবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখেন। নওয়াব সিরাজুল ইসলাম এর মৃত্যু হয় ১৯২৩ সালে কলকাতায়। [ লেখক: গোলাম কিবরিয়া ভূইয়া]


স্যার সৈয়দ শামসুল হুদা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরেক কৃতিসন্তান স্যার সৈয়দ শামসুল হুদা গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আজীবন সদস্য মনোনীত হন। সৈয়দ শামসুল হুদার সুপারিশে স্যার এ. এফ. রহমান কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রভোস্ট (পরবর্তীতে প্রথম বাঙালি উপাচার্য হন) মনোনীত করা হয়। তখন তিনি পূর্বে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যরত ছিলেন।

সৈয়দ শামসুল হুদা সর্বপ্রথম ১৯০৫ সালে বাজেটের বিরোধিতা করেন এবং সমভাবে পূর্ববাংলার উন্নয়নের জন্য নীতি গ্রহণের সুপারিশ করেন। তিনি এ বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠা করেন যে, এ উন্নয়ন পূর্ববাংলার মুসলিম জনতার জন্য সুবিধাজনক হবে যদিও উচ্চ বর্ণের হিন্দুগণ এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন। শিক্ষা ও রাজনৈতিক সচেতন ও বিদ্বান হিসাবে সৈয়দ শামসুল হুদা নতুন সত্যের মুখোমুখি হয়েছিলেন যা তিনি তার নিজের ভাষায় লিখেছেন:

“I claim that after the creation of the new Province, East Bengal has received a great deal more of personal attention. Before the Partition the largest amount of money used to be spent in districts near Calcutta. The best of Colleges, Hospitals and other institutions were founded in or near about the capital of India. Bengal alone now reaps the benefit of those institutions towards which both the Provinces had contributed. We have inherited a heritage of the accumulated neglect of years and cannot be blamed if [we] require large sums to put our house in order.[৩]»

অর্থাৎ “আমি মনেকরি, নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হওয়ার ফলে পূর্ববাংলার প্রতি সকলেরই ব্যক্তিগত মনোযোগ আকৃষ্ট হয়েছে। বিভাগপূর্বকালে বিপুল পরিমাণ অর্থ কলকাতার অদূরে অবস্থিত জেলাসমুহে ব্যয় করা হতো। সেরা কলেজ, হাসপাতাল এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমুহ ভারতের রাজধানী অভ্যন্তরে অথবা তার কাছাকাছি এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন উভয় প্রদেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল, বাংলা এখন থেকে একাকী ঐ সকল সুবিধাদি পাওয়ার অধিকারী। আমরা বিগত বছরের সঞ্চিত অবহেলার এক ঐতিহ্যগত উত্তরাধিকারী তাই [আমরা] যদি বড় অঙ্কের অর্থ নিজভূমের উন্নয়নের স্বার্থে রেখেদেয়ার দাবী করি তবে তাতে নিন্দা করার কিছু নেই।”

তিনি অন্যত্র লিখেনঃ

“They [Hindus] have benefited for very many years out of the revenues of Eastern Bengal and have paid very little for its progress and advancement ... I will only say that if Eastern Bengal now for some years costs money, and if that money is to come from any province outside East Bengal, it should come from Western Bengal and the members from that province should not as any rare grumble at it.

অর্থাৎ “তারা [হিন্দুগণ] পূর্ববঙ্গের রাজস্বে বহু বছর ধরে উপকৃত হয়ে আসছে, কিন্ত, এর উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য যৎসামান্যই ব্যয় করেছে...আমি শুধু এটুকু বলতে চাই যে, যদি পূর্ববঙ্গ এখন কয়েক বছরের জন্য অর্থ ব্যয় করে এবং উক্ত অর্থ পূর্ব বাংলার বাইরে কোনো প্রদেশ থেকে আসে, তাহলে তা পশ্চিম বঙ্গ থেকে আসা উচিৎ এবং এতে, সেই প্রদেশের সভ্যদের এতটা অসন্তোষ প্রকাশ করার কিছু নেই।” (উইকিপিডিয়া)

বাংলা তথা ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতিসন্তান নবার স্যার সৈয়দ শামসুল হুদার নাম যা আমাদের জন্য গর্ব ও আনন্দের।


সৈয়দ আব্দুল হাদী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান হিসেবে ১ জুলাই আমার আরেকটি আনন্দের কারণ হল, আজ কিংবদন্তিতুল্য সঙ্গীত শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীর জন্মদিন। ২০২০ সালে তাঁর আশিতম জন্মদিন। ১৯৪০ সালের এইদিনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার শাহপুরে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা সঙ্গীতে তিনি যা দান করেছেন তা চিরদিন সমুজ্জ্বল হয়ে থাকবে। উচ্চ শিক্ষিত, মার্জিত, বিনয়ী এই মানুষটি যখন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক ছিলেন, তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সেই সময়ে আমি মাসিক সড়ক পরিবহন পরিক্রমা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক। সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন সরাইলের অত্যন্ত গুণী মানুষ আমার অগ্রজ শ্রদ্ধেয় মানু ভাই। সেই পত্রিকায় সাক্ষাতকার নেয়ার উসিলা করে প্রায় দিনই হাদী ভাইয়ের কাছে যেতাম। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গৌরবকে দেখানোর জন্য সাথে নিয়ে যেতাম কাছের বন্ধু-বান্ধবদের। বুক ফুলিয়ে বলতাম, একজন সৈয়দ আব্দুল হাদী যে জেলায় জন্ম নিয়েছেন, সেই জেলার মানুষ আমি।

দোয়া করি, তিনি সুস্থভাবে সুদীর্ঘকাল বেঁচে থাকুন।

--------------------

(ঢাকা: জুলাই ১, ২০২০, ঈষৎ সংশোধিত জুলাই ১, ২০২১)


Yorumlar


পাঠক নিবন্ধন ফর্ম​

জমা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ!

লেখা প্রদানের জন্য মেইল করুন

banglakotha2011@gmail.com

©2025 by Banglakotha

Bangladesh

bottom of page