top of page

খান বাহাদুর আহছান উল্লাহ (রহ)-এর ৬০ তম মৃত্যুবার্ষিকী।। তিনি কে ছিলেন? কী ছিল তাঁর অবদান?

আজ ৯ ফেব্রুয়ারি (২০২৫) প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সুফি-সাধক, সমাজ ও শিক্ষা সংস্কারক খান বাহাদুর আহছান উল্লাহ (রহ)-এর ৬০ তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে মৌলভী আব্দুল করিম মাস্টার পাঠাগার ও প্রজ্ঞাকেন্দ্র, মোঃ জেহাদ উদ্দিন প্রয়াস জাতীয় কবি নজরুল বিদ্যানিকেতন, নজরুল স্টাডি সেন্টার ও মাসিক বাঙলাকথা মরহুমের পুণ্যস্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করছে।


তৎকালীন ব্রিটিশ-ভারতের খুলনা জেলার (বর্তমানে সাতক্ষীরা) নলতায় ২৬ ডিসেম্বর ১৮৭৩ তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এখানেই তিনি শেষ শয্যা গ্রহণ করেন। তাঁর সমাধিস্থল নলতা শরীূফ নামে সুপরিচিত।


তাঁর অম্লান কীর্তি আহছানিয়া মিশন। তাঁর অন্যান্য কীর্তি ও সংস্কারের মধ্যে রয়েছে:


১. তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক পরীক্ষার খাতায় পরীক্ষার্থীর নাম লেখার রীতি প্রচলিত ছিল। অনেকের মতে সাম্প্রদায়িকতা বিদ্যমান থাকায় হিন্দু ও মুসলিম পরীক্ষার্থীদের মধ্যে পক্ষপাতিত্ব হত। খানবাহাদুর আহ্‌ছানউল্লা- এর প্রচেষ্টায় প্রথমে অনার্স ও এম.এ পরীক্ষার খাতায় নামের পরিবর্তে ক্রমিক নং (Roll No.) লেখার রীতি প্রবর্তিত হয়। পরবর্তীতে এই.এ এবং বি.এ পরীক্ষার ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর নাম লেখার রীতি রহিত করা হয়।


২. সে সময় হাই স্কুল ও Intermediate মাদ্রাসা থেকে পাশ করে ছাত্ররা কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেত না। উক্ত মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়ন করেন খানবাহাদুর আহ্‌ছানউল্লা। ফলে মাদ্রাসা থেকে পাশ করা ছাত্রদের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ সৃষ্টি হয়।


৩. তৎকালীন সব স্কুল কলেজে তিনি মৌলবির পদ সৃষ্টি করেন এবং পণ্ডিত ও মৌলবির বেতনের বৈষম্য রহিত করেন।


৪. তখন উর্দুকে Classical Language হিসাবে গণ্য করা হত না। ফলে পশ্চিম বঙ্গের উর্দু ভাষী ছাত্রদের অসুবিধা হত। তারই প্রচেষ্টায় উর্দু সংস্কৃতির স্থান অধিকার করে।


৫. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার খসড়া বিল সিনেটে উপস্থাপিত হলে দারুণ বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে তা বিবেচনার জন্য একটি স্পেশাল কমিটি গঠিত হয়। খানবাহাদুর আহ্‌ছানউল্লা উক্ত কমিটির একজন সদস্য ছিলেন এবং তিনি এর আবশ্যকতা সমর্থন করেন।


৬. সরকার মুসলিম শিক্ষার ভার খানবাহাদুর আহ্‌ছানউল্লা এর হাতে ন্যস্ত করেন। ফলে বহু মক্তব, মাদ্রাসা, মুসলিম হাইস্কুল এবং কলেজ তারই তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়াও অমুসলিম স্কুলে মুসলিম শিক্ষকের নিযুক্তি এবং অন্যান্য সরকারি বিভাগের মুসলিম কর্মচারী নিয়োগও তার হাতেই ন্যস্ত ছিল।


৭. এই সুযোগে তিনি স্বতন্ত্র মক্তব পাঠ্য নির্বাচন ও মুসলিম ছাত্রদের শিক্ষার জন্য একমাত্র মুসলিম লেখকের প্রণীত পুস্তক প্রচলনের নিয়ম প্রবর্তন করেন এবং সরকারের অনুমতি নেন। প্রত্যেক মুসলিম বিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয় এবং প্রত্যেকের জন্য মুসলিম রচিত পাঠ্য পুস্তকের ব্যবহার প্রচলন হয়। এসময় মখদুমী লাইব্রেরী, প্রভিন্সিয়াল লাইব্রেরি ও পরে ইসলামিয়া লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা লাভ করে।


৮. মুসলিম ছাত্রদের জন্য বৃত্তির ধারা নির্দিষ্ট হয়। বিদ্যালয়ের সকল শ্রেণীর বৃত্তি বণ্টনের পূর্বে তার মতামত গ্রহণ করা হত।


৯. মুসলিম লেখকদের পাঠ্যপুস্তক লেখার সুযোগ দেওয়া হত। পূর্বে যে সকল লেখক ও পুস্তক ঘৃণিত বলে বিবেচিত হয় সরকারি ব্যবস্থায় তা সমাদৃত হতে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যে পুস্তক প্রকাশনা ও লেখকদের অবস্থা আশাতীত উন্নতি লাভ করে।


১০. মুসলিম ছাত্রদের জন্য বেকার হোস্টেল, টেলার হোস্টেল, কারমাইকেল হোস্টেল ও মুছলেম ইন্সটিটিউট কলকাতার বুকে প্রতিষ্ঠিত হয়।


১১. মুসলিম সাহিত্যের বিপুল প্রসার লাভ করে। মুসলিম সাহিত্যিকগণ নতুন প্রেরণা পান।


১২. বৈদেশিক শিক্ষার জন্য মুসলিম ছাত্র ছাত্রীদের সরকারি সাহায্য প্রদানের নিয়ম নির্ধারিত হয়।


১৩. টেক্সটবুক কমিটিতে মুসলিম সদস্য নিযুক্ত হয়, মুসলিম পাঠ্যে ইসলামী শব্দ প্রয়োগ হতে থাকে।


১৪. মুসলিম মহিলাদের উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশেষ বিশেষ স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।


১৫. মুসলিম শিক্ষা ও সাহিত্য বিস্তারে খানবাহাদুর আহ্‌ছানউল্লা এর আর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ 'মখদুমী লাইব্রেরী ও আহ্‌ছানউল্লা বুক হাউজ লিমিটেড' প্রতিষ্ঠা। মখদুমী লাইব্রেরীর উৎসাহ ও উদ্দীপনায় অনেক মুসলমান লেখক সৃজনশীল লেখার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। বহু সাহিত্যিক, লেখক, কবি এই লাইব্রেরীর সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে পরে। তৎকালীন আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ আনোয়ারা ও বিষাদ সিন্ধু এই লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত হয়। এছাড়াও এই লাইব্রেরি থেকে কাজী নজরুল ইসলামের 'জুলফিকার', বনগীতি, কাব্য আমপারা', খ্যাতনামা কথা শিল্পী আবু জাফর শামসুদ্দিনের 'পরিত্যক্ত স্বামী' , সৈয়দ আলী আহছানের 'নজরুল ইসলাম', শেখ হাবিবুর রহমানের 'বাঁশরী', 'নিয়ামত' প্রভৃতি বই প্রকাশিত হয়। এই লাইব্রেরি থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শ্রেণীর বহু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। শুধু তাই নয় অনেক নতুন লেখকদের লেখা গ্রন্থও এখান থেকে প্রকাশিত হয়। মখদুমী লাইব্রেরীর কার্যক্রম তৎকালীন মুসলিম সমাজে সাহিত্য সৃষ্টি ও সাহিত্যের প্রসারের ক্ষেত্রে একটি দ্রুত ও মৌলিক পরিবর্তন আনতে সমর্থ হয়েছিল।


তাঁর সম্পর্কে নালতা শরীফের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে:

Khanbahadur Ahsanullah (r.). a great saint, philosopher, renowned educationist and social reformer, dedicated his long chequered life for advancement of the backward community in late nineteenth and early twentieth century. He was the first Indian official to become a member of the Indian Education Service. He was the first Muslim member of Calcutta University Senate and Syndicate. He played an active role in the establishment of Dhaka University. As an Assistant Director of the Education Department in the undivided Bengal and Assam of British India, he made substantial reforms in the education system.


The entire gamut of literary thoughts of Khanbahadur Ahsanullah (r.) originated from his deep feelings for his country, his language and his desire to do good for the human kind. In the entire life, he relentlessly tried his hand on literature and creative writings. He wrote many books on spirituality, history, literature, Muslim traditions and the principles of Islam to bring about a renaissance in the lives of a decaying Muslim population of the time. Along with reflecting on the beauty of Islam, he presented in his writings, the inherent loftiness and the very essence of such religious creeds which made them so unique.


The very skill of his writing and the novelty in the presentation of the subject matters which had an unmistakable individualistic touch, transcended them from the temporal to the eternal, eventually earning them the honour of creative literature. By involving himself with the activities of various literary organizations, he also made literary endeavours and practice easy for others.

Comentarios


পাঠক নিবন্ধন ফর্ম​

জমা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ!

লেখা প্রদানের জন্য মেইল করুন

banglakotha2011@gmail.com

©2025 by Banglakotha

Bangladesh

bottom of page