নজরুলের পদ্মার ঢেউ রে।। মোঃ জেহাদ উদ্দিন
- মো জেহাদ উদ্দিন
- Jun 24, 2022
- 2 min read
Updated: Jun 25, 2022
পদ্মার ঢেউ রে— মোর শূন্য হৃদয়-পদ্ম নিয়ে যা, যা রে।। এই পদ্মে ছিল রে যার রাঙা পা এই পদ্মে ছিলো রে যার রাঙা পা আমি হারায়েছি তারে।। মোর পরান- বঁধু নাই, পদ্মে তাই মধু নাই, (নাই রে) বাতাস কাঁদে বাইরে, সে-সুগন্ধ নাই রে মোর রূপেরও সরসীতে, আনন্দ-মৌমাছি নাহি ঝংকারে রে ।। ও পদ্মা রে— ঢেউয়ে তোর ঢেউ উঠায় যেমন চাঁদের আলো মোর বঁধুয়ার রূপ তেমনি ঝিল্মিল্ করে কৃষ্ণ-কালো। সে প্রেমের ঘাটে ঘাটে বাঁশি বাজায় যদি দেখিস্ তারে-দিস্ এই পদ্ম তার পায় বলিস্ কেন বুকে আশার দেয়ালি জ্বালিয়ে ফেলে গেল চির -অন্ধকারে।। গ্রন্থ : বুলবুল-২য় খণ্ড রেকর্ড: হিন্দুস্তান, ডিসেম্বর ১৯৪১, নং এইচ ৯৬৯ আদি রেকর্ড শিল্পী: শচীন দেব বর্মন বেতারে গীতিচিত্র ‘পদ্মার ঢেউ’ শিরোনামে ১৪.০৬.১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে সম্প্রচারিত হয়। স্বরলিপি সংক্রান্ত তথ্য: ১. নজরুল সুর সঞ্চয়ন, ১ম খণ্ড ডি.এম. লাইব্রেরি ২. নজরুল সুরলিপি, ৯ম খণ্ড, ঢাকা ৩. নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি, ২য় খণ্ড, ঢাকা। মানুষের হৃদয়ে যে চিরকালীন শূন্যতা, হাহাকার ও আর্তনাদ—তা বিমূর্ত হয়ে অনবদ্য চিত্ররূপ পেয়েছে নজরুলের অমর সৃষ্টি পদ্মার ঢেউ রে গানে। বিদ্রোহী কবি নামে জগদ্বিখ্যাত এই কবি যে মূলত: বিরহের কবি তা-ও চিরভাস্বর হয়ে আছে এই গানে। বাণি, সুর ও চিত্রকল্পে এমন গান এককথায় মহাবিস্ময়কর। গানের শুরুতেই কবি তাঁর মতোই চিরবিরহী, চির চঞ্চল পদ্মার ঢেউকে তাঁর মনের কথা বলছেন এইভাবে— “পদ্মার ঢেউ রে— মোর শূন্য হৃদয়-পদ্ম নিয়ে যা, যা রে।।” পদ্মার ঢেউ তার আরাধ্যকে খুঁজে পেতে যেমন চঞ্চল হয়ে উঠেছে, কবি-মনও যেন ঠিক তা-ই! তাই পদ্মার ঢেউয়ের সঙ্গী হতে চাইছে বিরহী কবি-মন। কবি তাঁর পরান-বঁধুকে হারিয়ে পাগলের মতো ছুটে বেড়াচ্ছেন। তাঁর বিরহে প্রকৃতিও যেন ক্রন্দন করছে অবিরত। মূলত: আত্মার সাথে পরমাত্মার মিলনেই যেন অবসান ঘটে এই বিরহের। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর বহু রচনায় বধুর সাথে মিলন কামনা করছেন। যেমন—বধু তোমার আমার এই যে বিরহ এক জনমের নহে...ইত্যাদি। ইহা যে লৌকিক বধু নয়,তা বলাই বাহুল্য। এখানেও দার্শনিক কবি পদ্মার ঢেউয়ের সঙ্গী হয়ে তাঁর পরম স্রষ্টার সান্নিধ্যই প্রার্থনা করছেন। পদ্মার ঢেউ রে গানটি কেবল একটি অনবদ্য বিরহের গান নয়, কেবল শ্রেষ্ঠতম একটি পল্লীগীতি নয়—বরং এটি মানবহৃদয়ের চিরন্তন হাহাকারের সার্থক চিত্রকল্প। অবশ্য কবি এখানে অনেক বিষয়ের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক সূত্রও ব্যবহার করেছেন। যেমন, ও পদ্মা রে— ঢেউয়ে তোর ঢেউ উঠায় যেমন চাঁদের আলো এখানে ঢেউয়ের সাথে, জোয়ার ভাটার সাথে চাঁদের প্রত্যক্ষ সম্পর্ককে কবি নিপুণ ভঙ্গিমায় ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর বিভিন্ন সৃষ্টিতে এমন বৈজ্ঞানিক নজির অগণন।
Коментарі