নজরুলের শিশুসাহিত্য।। মোঃ জেহাদ উদ্দিন
- মো জেহাদ উদ্দিন
- Feb 10, 2021
- 6 min read
কাজী নজরুল ইসলাম কেমন শিশু ছিলেন? এক কথায় অসাধারণ। কেমন ছাত্র ছিলেন? এক কথায় ক্লাসের ফার্স্ট বয়-সেরা ছাত্র। প্রকৃতির পাঠশালা থেকে জ্ঞান আহরণ করেছেন। লেটো দলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কাজ করেছেন। উপার্জন করে মা’কে দিয়েছেন। কারো কাছে হাত পাতেন নি। পিতার মৃত্যুর পর আপন মামা ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান সাহায্যের হাত বাড়ালেও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। জীবনে কারো কাছে হাত পাতেন নি।
স্বর্গদূত শিশুদের নজরুল স্বাগত জানিয়েছেন এইভাবে:
‘পার হয়ে কত নদী কত সে সাগর/এই পারে এলি তুই শিশু যাদুকর!
......................................
ছোট তোর মুঠি ভরি’ আনিলি মণি/সোনার জিয়ন—কাঠি মায়ার ননী।
তোর সাথে ঘর ভরে এল ফাল্গুন/সব হেসে খুন হল, কি জানিস গুণ!’ (শিশু যাদুকর)
শিশুদের জন্যে নজরুল যা লিখেছেন তা বিশ্ব সাহিত্যে বিরল। সহজ—সরল কৌতুকরসে সমৃদ্ধ তাঁর শিশুসাহিত্য। শিশু মনের সহজাত দুরন্তপনা, ইচ্ছে-আকাঙ্খার প্রকাশ ঘটেছে রচনাগুলোয়।
সাধারণত শিশু সাহিত্যের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে উপদেশের আধিক্য যা সাহিত্য না থেকে ‘সাহিত্য—ব্যবস্থাপত্রে’ রূপান্তরিত হয়ে শিশুদের কচি ঘাড়ে বোঝা হিসেবে চিহ্নিত হয় কিন্তু নজরুলের শিশু সাহিত্যে জ্ঞান বিতরণ বা উপদেশের ঘনঘটা নেই, নেই অপরিশীলিত বা অমার্জিত ভাবের প্রকাশ। শিশুমনের সম্ভব—অসম্ভব সব ধরণের ইচ্ছে—আকাঙ্খার প্রকাশ ঘটেছে তাদেরই চির—চেনা ভাষায়, চাপিয়ে দেয়া কিংবা বড়দের ভাষায় নয়।
তিনি যখন যার জন্যে লিখেছেন তখন তারই হয়ে গেছেন, তাঁর নিজের জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয়ই তাঁকে অমর সব লেখার খোরাক জুগিয়েছে। আর তাঁর শিশুতোষ রচনা শিশুদের একান্ত হবার আরেকটি কারণ এই যে, রচনাগুলোর অধিকাংশই তাঁর কিশোর বয়সের রচনা। ফলে তিনি শিশুদের জন্যে যা লিখেছেন তা রীতিমত তাদের প্লাটফরম থেকেই রচিত। আর এর মাধ্যমেই নজরুলের শিশু সাহিত্য হয়ে উঠেছে একান্তভাবে শিশুদের সম্পদ।
নজরুলের শিশুতোষ রচনার মধ্যে জনপ্রিয় অনেকগুলো ছড়া কবিতাই ‘ঝিঙেফুল’ এ স্থান পেয়েছে। মোট চৌদ্দটি ছড়া কবিতার সংকলন ঝিঙেফুল। ছড়াগুলো হলো ঝিঙেফুল, খুকী ও কাঠবেড়ালী, খোকার খুশী, খাদু-খাদু, দিদির বে’ তে খোকা, মা, খোকার বুদ্ধি খোকার গপ্প বলা, চিঠি, প্রভাতী, লিচু চোর, হোঁদল কুঁৎ কুঁৎ এর বিজ্ঞাপন, ঠ্যাংফুলী, ও পিলে-পটকা।
ঝিঙে ফুল এ কবি লিখেন—
তুমি বল—‘আমি হায়
ভালোবাসি মাটি-মায়,
চাই না ও অলকায়—
ভাল এই পথ—ভুল! ঝিঙেফুল।।’
অর্থাৎ একজন শিশু তার কোমল মনের নির্মল আনন্দময় ভূবনে মাটি—মাতা—মানুষকে ভালবাসার খেলাও খেলছে মনের আনন্দেই। আর এভাবে মনের অজান্তেই ভালোবাসার প্রত্যয়যুক্ত একটি পৃথিবী গড়ার পথে এগিয়ে যায় শিশুরা। প্রত্যেক শিশুকেই তিনি প্রভাতের গান শুনিয়েছেন—
ভোর হোলো
দোর খোলো
খুকুমণি ওঠো রে!
ঐ ডাকে যুঁই—শাখে
ফুল—খুকি ছোটো রে!
খুকুমণি ওঠো রে!
হ্যামিলনের এমন বাঁশিওয়ালা যখন ডাকে, তখন দুনিয়ার তাবত শিশুর মধ্যে যেন সাড়া পড়ে যায় একসাথে—
উঠ্ল
ছুটল
ঐ খোকাখুকি সব
‘উঠেছে আগে কে’
ঐ শোনো কলরব।
নজরুলের এই শিশুরা হবে ‘সকাল বেলার পাখি’, তারা ‘সূয্যি মামা জাগার আগে’ জেগে উঠবে। প্রচলিত সেকেলে সমাজ যদি তাদের জাগরণের পথে বাধার সৃষ্টি করে তা তারা অতিক্রম করবে; কেননা তাদের মনে এক স্বর্গীয় জিজ্ঞাসা ‘আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?’ তারা গাঁয়ের রাখাল হয়ে প্রকৃতির সকল সম্পদ মানবতার জন্যে চষে নিয়ে আসবে, দিনের সহচর হয়ে সকল আঁধার দূর করবে, সাত সাগড় পাড়ি দিয়ে মানব সভ্যতার জন্যে সকল সম্পদ বয়ে নিয়ে আসবে। দুঃখিনী এ জগত—মাতাকে সে কথা দিয়েছে—
‘দুঃখিনী তুই, তাই তো মা এ দুখ ঘুচাব আজ,
জগৎ জুড়ে সুখ কুড়াব—ঢাকব মা এ লাজ।’
(সাত ভাই চম্পা: কাজী নজরুল ইসলাম)
শিশুমনের চিরায়ত জিজ্ঞাসা নজরুলের যাদুর হাতে কাব্য হয়েছে এভাবে—
‘রব না চক্ষু বুজি
আমি ভাই দেখব খুঁজি
লুকানো কোথায় কুঁজি
দুনিয়ার আজব—খানার!
আকাশের প্যাঁটরাতে কে
এত সব খেলনা রেখে
খেলে ভাই আড়াল থেকে,
সে তো ভাই ভারী মজার।’
(জিজ্ঞাসা: কাজী নজরুল ইসলাম)
আর তাই তো নজরুল কাব্যে শিশুদের চিরায়ত সংকল্প ভাষা পেয়েছে এভাবে—
‘থাকব না কো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে
কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে।’
(সংকল্প: কাজী নজরুল ইসলাম)
শিশুদের জন্যে নজরুল যখন কাজ করেছেন তখন যেন তিনি নিজেই শিশু হয়ে গেছেন। তাদেরই একজন হয়ে তিনি অমর সব শিশুতোষ সাহিত্য সৃজন করেছেন।
মেয়ে শিশুদের প্রতি অত্যাচার মানব সভ্যতার ইতিহাসে কম হয় নি। আজকের এই চরম উন্নতির যুগেও মেয়ে শিশুরা বিভিন্ন সমাজে চরম বৈষম্যের শিকার হয়। যেমন, ভারতের কোন কোন অঞ্চলে এখনো মেয়ে শিশুর জন্মকে এতটাই নিরুৎসাহিত করা হয় যে, ভ্রূণ পর্যায়েই তাকে হত্যা করা হয়। আর নজরুল মেয়ে শিশুর আবির্ভাবকে স্বাগত জানিয়েছেন এভাবে—
কও দেখি বোন কোন মেয়ে এই আসলো মোদের আঙিনায়—
এত স্নেহ উছলে পড়ে কাহার তনুর ভঙ্গিমায়?
এ যে মোদের ভারতী মা.....
(মুকুলের উদ্বোধন: কাজী নজরুল ইসলাম)
মেয়েদেরকে ‘ঘরের লক্ষ্মী’ আখ্যা দিয়ে নজরুল পৃথিবীর স্বর্গ—সুখের যে চিত্রটি এঁকেছেন সেখানে মেয়েদের জীবন নির্মল আনন্দে ভরপুর—
ছোট ছোট বোনগুলি সব আহ্লাদে আজ আটখানা,
কচি হাসির বাঁশি কাঁপায় পুলক দিয়ে মাঠখানা।
(মুকুলের উদ্বোধন: কাজী নজরুল ইসলাম)
‘স্কুলে যাও, চাকরি কর’/আদর্শ নাই ইহার বড়,
সকাল বেলা জেগে ওঠা, ঘুমিয়ে সন্ধ্যাবেলা,
দেশ কোথা মা! এ যে শুধু শ্মশান—শবের মেলা।’
(কিশোর স্বপ্ন: কাজী নজরুল ইসলাম)
এ পর্যায়ে কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘মোবারকবাদ’ কবিতাটি নিম্নে উদ্ধৃত করছি-যা শিশু-কিশোরদের চিরকালীন অনুপ্রেরণা হিসেবে ভূমিকা রাখছে:
মোরা ফোটা ফুল, তোমরা মুকুল এসো গুল-মজলিশে
ঝরিবার আগে হেসে চলে যাব – তোমাদের সাথে মিশে।
মোরা কীটে-খাওয়া ফুলদল, তবু সাধ ছিল মনে কত–
সাজাইতে ওই মাটির দুনিয়া ফিরদৌসের মতো।
আমাদের সেই অপূর্ণ সাধ কিশোর-কিশোরী মিলে
পূর্ণ করিয়ো, বেহেশ্ত এনো দুনিয়ার মাহফিলে।
মুসলিম হয়ে আল্লারে মোরা করিনিকো বিশ্বাস,
ঈমান মোদের নষ্ট করেছে শয়তানি নিশ্বাস!
ভাইয়ে ভাইয়ে হানাহানি করিয়াছি, করিনি কিছুই ত্যাগ,
জীবনে মোদের জাগেনি কখনও বৃহতের অনুরাগ!
শহিদি-দর্জা চাহিনি আমরা, চাহিনি বীরের অসি,
চেয়েছি গোলামি, জাবর কেটেছি গোলামখানায় বসি।
তোমরা মুকুল, এই প্রার্থনা করো ফুটিবার আগে,
তোমাদের গায়ে যেন গোলামের ছোঁয়া জীবনে না লাগে।
গোলামের চেয়ে শহিদি-দর্জা অনেক ঊর্ধ্বে জেনো;
চাপরাশির ওই তকমার চেয়ে তলোয়ারে বড়ো মেনো!
আল্লার কাছে কখনও চেয়ো না ক্ষুদ্র জিনিস কিছু,
আল্লাহ্ ছাড়া কারও কাছে কভু শির করিয়ো না নিচু!
এক আল্লাহ্ ছাড়া কাহারও বান্দা হবে না, বলো,
দেখিবে তোমার প্রতাপে পৃথিবী করিতেছে টলমল!
আল্লারে বলো, ‘দুনিয়ায় যারা বড়ো, তার মতো করো,
কাহাকেও হাত ধরিতে দিয়ো না, তুমি শুধু হাত ধরো।’
এক আল্লারে ছাড়া পৃথিবীতে কোরো না কারেও ভয়
দেখিবে – অমনি প্রেমময় খোদা, ভয়ংকর সে নয়!
আল্লারে ভালোবাসিলে তিনিও ভালোবাসিবেন, দেখো!
দেখিবে সবাই তোমারে চাহিছে আল্লারে ধরে থেকো!
খোদার বাগিচা এই দুনিয়াতে তোমরা নব মুকুল,
একমাত্র সে আল্লাহ্ এই বাগিচার বুলবুল!
গোলামের ফুলদানিতে যদি এ মুকুলের ঠাঁই হয়,
আল্লার কৃপা-বঞ্চিত হব, পাব মোরা পরাজয়!
যে ছেলেমেয়ে এই দুনিয়ায় আজাদমুক্ত রহে,
তাহাদেরই শুধু এক আল্লার বান্দা ও বাঁদি কহে!
তারাই আনিবে জগতে আবার নতুন ঈদের চাঁদ,
তারাই ঘুচাবে দুনিয়ার যত দ্বন্দ্ব ও অবসাদ!
শুধু আরশের আতরদানিতে যাহাদের হয় ঠাঁই,
তোমাদের এই মহফিলে আমি সেই মুকুলেরে চাই!
সেই মুকুলেরা এসো মহফিলে, বসাও ফুলের হাট,
এই বাংলায় তোমরা আনিয়ো মুক্তির আরফাত।
শিশুরা বিদ্যাশিক্ষার জন্যে ছাত্রজীবনে প্রবেশ করে। একজন ছাত্রের সাধনা কি হবে তা অসাধারণ কুশলতায় নজরুল এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যার দ্বিতীয় উদাহরণ বাংলা সাহিত্যে কেন, বিশ্বসাহিত্যের আছে কি না সন্দেহ। ছাত্রদের জন্যে নজরুল রচিত ‘ছাত্রদলের গান’ কবিতাটিই এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে যথেষ্ট। নজরুলের চোখে ছাত্ররা অপরিমেয় শক্তির আধার, বিশ্বমানবতার মুুক্তির জন্যে তারা যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে জানে। আকাশ—পাতাল—মর্ত্য জয় করে তারাই সৃজন করে ‘ভালবাসার আশার ভবিষ্যৎ’। তাদের জ্ঞানের মশালে আলোকিত হয় আঁধার পৃথিবী, তাদের চোখেই স্বপ্ন দেখে গোটা পৃথিবী।
মোদের চক্ষে জ্বলে জ্ঞানের মশাল
বক্ষে ভরা বাক
কন্ঠে মোদের কুন্ঠাবিহীন নিত্যকালের ডাক।
................................
আমরা রচি ভালবাসার আশার ভবিষ্যৎ
মোদের স্বর্গ—পথের আভাস দেখায় আকাশ-ছায়াপথ।
মোদের চোখে বিশ্ববাসীর
স্বপ্ন দেখা হোক সফল।
পুতুলের বিয়ে (ছোট মেয়েদের নাটক) নজরুলের শিশু-সাহিত্যের আরেক অমূল্য নিদর্শন।পুতুলের বিয়ে (নাটক), কাল জামরে ভাই (ছড়া) জুজু বুড়ির ভয় (নাটক), কে কি হবি বল (ছড়া নাটক), ছিনিমিনি খেলা (নাটক), কানামাছি (নাটক), নবাব নামতা পাঠ (নাটক), সাতভাই চম্পা (কাব্য নাটক), শিশু যাদুঘর (ছড়া)। উল্লেখ্য, প্রত্যেকটা নাটকই শিশু-কিশোর উপযোগী এবং প্রত্যেকটা নাটকেই একাধিক চমৎকার গানের ব্যবহার করেছেন কবি--কোনটাতে কবিতা। যেমন-
মোরা একই বৃন্তে দুটি ফুল হিন্দু মুসলমান
মুসলিম তার নয়নমণি, হিন্দু তাহার প্রাণ।
মাঙ্গলিক কবিতায় কবি বলেন:
যে আদর্শ মানুষ আজও জন্মেনিক এই ধরায়
তুমিই হবে সেই সে মানুষ অধ্যবসায়, তপস্যায়।
সূর্য-সম শেষ জীবনে রাঙিয়ে যাবে দিগ্বিদিক
যুক্ত করে বিশ্ব নিখিল গাইবে তোমার মাঙ্গলিক।
‘জাগো সুন্দর চির কিশোর’ নাটিকাটি শিশুমনের অসাধারণ এক রূপকল্প। চরিত্রগুলো স্বপ্নের মধ্যে পরীর দেখা পায়। পরী তাদের পাতালপুরী আর ভিন্ন গ্রহ ভ্রমণ করিয়ে আনার কথা বলে। পরী জানায় কোনো ধনসম্পদের জন্য লোভ করতে নেই। সবকিছু অর্জন করতে হয় পরিশ্রম দিয়ে। মূল চরিত্র কংকন পরীর কাছে প্রার্থনা রাখে চাঁদের দেশে যাবার জন্য। সেখান থেকে যে অমৃত নিয়ে আসবে। কোন জরা, মৃত্যু থাকবে না থাকবে শুধু সুন্দর চির কিশোর। এক অদ্ভুত সুন্দর সমাপ্তি এই নাটিকার। কঙ্কণের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় বিশ্বের সকল মানুষের মুক্তির এই গান:
“চল চল চল
উর্ধ্দ গগনে বাজ মাদল
নিম্নে উতলা ধরণীতল
অরুণ প্রাতের তরুণদল
চল রে চল রে চল
চল চল চল।
ঊষার দুয়ারে হানি আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত
আমরা টুটাব তিমির রাত
বাধার বিন্ধ্যাচল।
নবনবীনের গাহিয়া গান
সজীব করিব মহাশ্মান
আমরা দানিব নূতন প্রাণ
বাহুতে নবীন বল।”
তরুণদের আত্মত্যাগের ফলেই রচিত হয় নবযুগ, নবপথ, আসে স্বাধীনতা। হাসিমুখে প্রাণ বিসর্জন দিতে পারা এই তরুণদের চলার পথের চিত্র এবং তাদের মঞ্জিলে মকসুদ নজরুল-কাব্যে ফোটে উঠেছে এভাবে—
নূতন দিনের নবযাত্রীরা চলিবে বলিয়া এই পথে
বিছাইয়া যাই আমাদের প্রাণ, সুখ, দুখ, সব আজি হ’তে।
ভবিষ্যতের স্বাধীন পতাকা উড়িবে যেদিন জয়-রথে
আমরা হাসিব দূর তারা—লোকে, ওগো তোমাদের সুখ স্মরি।।
নজরুল যে সম্পদ রেখে গেছেন বাংলাভাষী শিশু কিশোরদের জন্য তার মূল্যায়ন কি হয়েছে? আছে কোন আলোচনা? হাতেগোনা দু’তিনটে ছড়া তাঁর কবিতা, নাটিকার মঞ্চায়ন, আবৃত্তি তো চোখে পড়ে না। অথচ নজরুলের শিশু সাহিত্য নিয়ে আলোচনা মঞ্চায়ন আবৃত্তি করা সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি। শিশুদের হাতে তুলে দিয়ে তাদের জানানো দরকার তাদের জন্যও অনেক মণিমুক্তো রেখে গেছেন নজরুল। তারা তা হাতে নিয়ে দেখুক সেগুলোর মর্মার্থ, উপলব্ধি করুক এবং নিজের জীবনে তা প্রযুক্ত করে নিজেদের চির-কিশোর করে তুলে ধরুক সমাজে। তাহলেই নজরুল সম্মানিত হবেন। তাকে সম্মান করা মানেই আমাদের নিজেদের সম্মানিত করা। নজরুলের শিশু সাহিত্য বিস্মৃতি থেকে আলোর মুখ দেখবে এই আশাবাদ রইলো।
মোঃ জেহাদ উদ্দিন। নজরুল গবেষক। প্রতিষ্ঠাতা: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্যানিকেতন ও নজরুল স্টাডি সেন্টার। উপসচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়। ই-মেইল: jehaduddin77@gmail.com
Comments