top of page

পবিত্র জুমাতুল বিদা।। ড. মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন


ইসলামের ইতিহাস থেকে জানা যায়, রমজান মাসের শেষ শুক্রবার হজরত সুলায়মান (আ.) জেরুজালেম নগরী প্রতিষ্ঠা করেন এবং মুসলমানদের প্রথম কিবলা ‘মসজিদ আল-আকসা’ প্রতিষ্ঠা করেন। এ জন্য প্রতিবছর সারা বিশ্বের মুসলমানরা রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে ‘আল কুদস’ দিবস হিসাবে পালন করেন। জুমার ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সূর্যোদয় হওয়ার সবগুলো দিনের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম ও শ্রেষ্ঠ হলো জুমার দিন। এই জুমার দিনেই হজরত আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন এবং জুমার দিনই তাকে জান্নাত দান করেন এবং জুমার দিনেই তাকে জান্নাত থেকে এই দুনিয়ায় প্রেরণ করেন এবং কেয়ামতও এই জুমার দিনেই হবে॥’ রমজান মাস সীমাহীন ফজিলতের মাস এবং এটি উম্মতে মোহাম্মাদীর জন্য মহান আল্লাহর বিশেষ উপহার স্বরূপ। আর জুমার দিনের মাহাত্ম্য সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূর্যদয়ের মাধ্যমে যে দিনগুলো হয় তার মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। ইসলামি শরিয়তে জুমাতুল বিদা বলে আলাদা কোনো ফজিলতপূর্ণ দিন নেই। তবে সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় জুমার দিনের গুরুত্ব, ফজিলত ও মর্যাদা অনেক বেশি। আর রমজানের কারণে কোরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক যে কোনো ইবাদত-বন্দেগির মর্যাদা। ১৪৪৩ হিজরির রমজান মাসে মুসলিম উম্মাহ ইতিমধ্যে তিনটি জুমা অতিবাহিত করেছেন। আজ রমজানের বিদায়ী জুমা। তাই কোরআন নাজিলের মাসের মর্যাদা ও বরকতের সঙ্গে জুমার মর্যাদা ও ফজিলতে মুমিন রোজাদারের আমল ও হৃদয় হোক আলোকিত। জুমাতুল বিদার বিশেষ ফজিলতের কথা না ভেবে যেহেতু আজই রমজানের শেষ জুমা তাই জুমাতুল বিদা আদায়ে কোরআন-সুন্নাহ ঘোষিত ফজিলত অর্জনের চেষ্টা করা প্রত্যেক ঈমানদার মুসলমানের জন্য জরুরি। জুমার নামাজের মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-হজরত সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা জুমার নামাজে উপস্থিত হও এবং ইমামের কাছাকাছি হয়ে দাঁড়াও। কেননা যে ব্যক্তি জুমার নামাজে সবার পেছনে উপস্থিত হবে, জান্নাতে প্রবেশ ক্ষেত্রেও সে সবার পিছনেই পড়ে থাকবে।' হজরত আওস ইবনে আওস আস-সাকাফি (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জুমার দিনে ভালো করে গোসল করবে এবং আগে আগে হেঁটে মসজিদে যাবে এবং ইমামের কাছাকাছি বসে খুতবা মনোযোগসহকারে শুনবে আর কোনো রকম অনর্থক কাজ করবে না তাকে তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে লাগাতার এক বছর নামাজ ও রোজার সওয়াব দান করা হবে। (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস : ১০৮৭)। আল্লাহ এই পবিত্র দিনের হরকতে তুমি আমাদের, আমাদের পরিবার ও সকল মুসলিমদের ক্ষমা করে দিও॥ আমাদের তোমার রহমত থেকে নিরাশ করো না॥ ২৯ এপ্রিল ২০২২ শুক্রবার॥

Comments


পাঠক নিবন্ধন ফর্ম​

জমা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ!

লেখা প্রদানের জন্য মেইল করুন

banglakotha2011@gmail.com

©2025 by Banglakotha

Bangladesh

bottom of page