top of page

পল্লীগীতি সম্রাট আব্দুল আলীম এর ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ।। বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ


বাংলা লোকসঙ্গীতকে যিনি নতুন এক উচ্চতা প্রদান করে গেছেন, যাঁর গান বাংলা ভাষাভাষী সকল মানুষের ঘরে পৌঁছে গেছে এবং অনন্তকাল যাবত আমাদের পিপাসা মেটাবে তিনি হলেন পল্লীগীতি সম্রাট আব্দুল আলীম। আজ ২৭ জুলাই ২০২১ তাঁর ৯০ তম জন্মবার্ষিকী। মহান এই সাধক শিল্পীর ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে মাসিক বাঙলাকথা, নজরুল স্টাডি সেন্টার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্যানিকেতন, মৌলভী আব্দুল করিম মাস্টার পাঠাগার ও প্রজ্ঞাকেন্দ্র তাঁকে বিশেষভাবে স্মরণ করছে।

আবদুল আলীমের জন্ম ১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের (ভারত) মুর্শিদাবাদের তালিবপুর গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই তিনি সঙ্গীতের প্রবল অনুরাগী ছিলেন। অর্থনৈতিক অনটনের কারণে কোনো শিক্ষকের কাছে গান শেখার সৌভাগ্য তাঁর হয়নি। তিনি অন্যের গাওয়া গান শুনে গান শিখতেন; আর বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সেগুলো গাইতেন। এভাবে গান গেয়ে ছোটবেলা থেকেই তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পরবর্তীতে বাংলা লোক সঙ্গীতকে তিনি অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায় নিয়ে যান--যেখানে জীবন জগৎ এবং ভাববাদী চিন্তা একাকার হয়ে গিয়েছিল।

তাঁর বাবার নাম ছিল মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। প্রাইমারি স্কুলে পড়বার সময় গ্রামোফোন রেকর্ডে গান শুনে গান গাইবার জন্য আগ্রহ জন্মে। ছোটবেলায় তার সঙ্গীত গুরু ছিলেন সৈয়দ গোলাম আলী। ঐ অল্প বয়স হতেই বাংলার লোক সঙ্গীতের এই অমর শিল্পী গান গেয়ে নাম করেছিলেন। মাত্র তেরো বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে তার গানের প্রথম রেকর্ড হয়। রেকর্ডকৃত গান দুটি হলো "তোর মোস্তফাকে দে না মাগো" এবং "আফতাব আলী বসলো পথে"। এত অল্প বয়সে গান রেকর্ড হওয়া সত্যিই বিস্ময়কর। পরে তা আর বিস্ময় হয়ে থাকেনি, তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলার লোক সঙ্গীতের এক অবিসংবাদিত-কিংবদন্তি পুরুষ। তাঁর সাত সন্তানের মধ্যে তিন সন্তান জহির আলীম, আজগর আলীম ও নূরজাহান আলীমও বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী।

আব্দুল আলীম কলকাতায় গিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম ও আব্বাস উদ্দীন আহমেদ এর সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে গান করেছেন। লেটো দলে, যাত্রা দলেও তিনি কাজ করেছেন। পেশাগত জীবনে আবদুল আলীম ছিলেন ঢাকা সঙ্গীত কলেজের লোকগীতি বিভাগের অধ্যাপক।

দেশ বিভাগের পরে আব্দুল আলীম ঢাকায় চলে আসেন এবং রেডিওতে স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে গান গাইতে শুরু করেন। তিনি পরে টেলিভিশন সেন্টার চালু হলে সেখানেও সঙ্গীত পরিবেশন শুরু করেন। তিনি অসংখ্য বাংলা চলচ্চিত্রে নেপথ্য কন্ঠশিল্পী হিসেবে অগণিত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। চলচ্চিত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে মুখ ও মুখোশ, এদেশ তোমার আমার, জোয়ার এলো, সুতরাং, পরশমণি, বেদের মেয়ে, রূপবান, সাত ভাই চম্পা, পদ্মা নদীর মাঝি ইত্যাদি। তাঁর কিছু অবিস্মরণীয় গান হলো: পরের জায়গা পরের জমি, নাইয়া রে নায়ের বাদাম তুইলা, সর্বনাশা পদ্মা নদী, হলুদিয়া পাখী, মেঘনার কূলে ঘর বাঁধিলাম, এই যে দুনিয়া, দোল দোল দুলনি, দুয়ারে আইসাছে পালকি, কেন বা তারে সঁপে দিলাম দেহ মন প্রাণ, মনে বড় আশা ছিল যাবো মদীনায়, বন্ধুর বাড়ি মধুপুর, নবী মোর পরশমণি, উজান গাঙের নাইয়া ইত্যাদি।


আব্দুল আলীম তাঁর আধ্যাত্মিক ও মরমী মুর্শিদী গানের জন্য অমর হয়ে থাকবেন। মহান এই ব্যক্তিত্বকে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৭ সালে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করে।


Comments


পাঠক নিবন্ধন ফর্ম​

জমা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ!

লেখা প্রদানের জন্য মেইল করুন

banglakotha2011@gmail.com

©2025 by Banglakotha

Bangladesh

bottom of page