top of page

বিদ্রোহী কবিতার উপর আলোচনা ও সিআরসি সাহিত্য পুরস্কার ২০২২

বাঙলাকথা প্রতিবেদন

কালচারাল রিসার্চ সেন্টার এর উদ্যোগে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে গত ১৪ নভেম্বর ২০২২ বিকেলে

'জাতীয় জাগরণে বিদ্রোহী কবিতা: প্রজন্ম ভাবনা শীর্ষক আলোচনা সভা ও সিআরসি সাহিত্য পুরস্কার ২০২২ প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সিআরসি সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. শমসের আলী, প্রধান আলোচক ছিলেন নজরুল ইনস্টিটিউট এর নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), নজরুল গবেষক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন সিআরসি সহ-সভাপতি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, নজরুল গবেষক মোঃ জেহাদ উদ্দিন এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান।

অনুষ্ঠানে যে ৩ জনকে সিআরসি সাহিত্য পুরস্কার ২০২২ প্রদান করা হয় তাঁরা হলেন মরমী সাধক হাসন রাজার প্রপৌত্র, হাসন রাজা ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান সামরীন দেওয়ান‌ (হাসন গবেষক) ; কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

মোঃ শরীফ হোসেন (গল্প) এবং সীমান্ত আকরাম (তরুণ সাহিত্যিক)।

পুরস্কার হিসেবে সিআরসির পক্ষ থেকে প্রত্যেককে একটি করে ক্রেস্ট, সনদ ও বই এবং মাসিক বাঙলাকথার পক্ষ থেকে প্রত্যেককে প্রাইজবন্ড প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এম. শমসের আলী বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি আমরা এখনও সুবিচার করতে পারিনি। অনতিবিলম্বে জাতীয় কবি সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নজরুল ইনস্টিটিউট কে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি জানান, ইতালি অবস্থানকালে সেখানকার একটি পরিবারের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সেই পরিবারের কর্তা ছিলেন অত্যন্ত প্রাণোচ্ছ্বল ও সংস্কৃতিমনা মানুষ। কয়েক বছর পর আবার যখন ঐ পরিবারের সাথে তাঁর দেখা হয়, তখন জানতে পারেন যে, ঐ ভদ্রলোক অনেকদিন পক্ষাঘাতগ্রস্ত থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। তারপর তাঁর স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে ড এম শমসের আলীর কাছে জানতে চান, আপনি আমার স্বামীকে কি এমন লিখে দিয়েছিলেন যে, তিনি অসুস্থ অবস্থায় শুয়ে শুয়ে তা পড়তেন এবং তাঁর দু'চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ত।

ড এম শমসের আলী বলেন, ভদ্রমহিলার এ কথা শুনে আমি পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখি, কাজী নজরুল ইসলামের কয়েকটি চরণ আমি অনুবাদ করে তাকে দিয়েছিলাম:

"তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু আর আমি জাগিব না/ কোলাহল করি সারা দিনমান কারও ধ্যান ভাঙিব না/ নিশ্চল নিশ্চুপ/ আপনার মনে পুড়িব একাকী গন্ধবিধুর ধূপ…।'

ড এম শমসের আলী বলেন, আমার মতো কাঁচা হাতের নজরুল অনুবাদ পড়ে একজন ইতালীয় ভদ্রলোকের যদি চোখের পানি গড়িয়ে পড়ে, তাহলে বুঝতে হবে নজরুলের আবেদন সর্বব্যাপী। নজরুলকে বিশ্বের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলে একদিকে যেমন তাঁর প্রতি সুবিচার হতো, অপরদিকে বিশ্ববাসী তাঁর অমূল্য সম্পদের সুবিধা ভোগ করতে পারত।

ড এম শমসের আলী আরো বলেন, নজরুল লিখেছেন, অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে, আর রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন গীতাঞ্জলি। রবীন্দ্রনাথের অঞ্জলি গ্রহণ করেছিলেন W.B Yeats, কিন্তু নজরুলের অঞ্জলি গ্রহণ করার কাউকে আমরা খুঁজে পাইনি। এটি নজরুল জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। নজরুল যদি সঠিকভাবে মূল্যায়িত হতেন, তবে বিশ্ববাসী তাদের শ্রেষ্ঠতম একজন কবিকে জানার সুযোগ পেত।

নজরুল রচনাবলী পৃথিবীর প্রধান প্রধান ভাষায় সঠিকভাবে অনুবাদের বিষয়ে নজরুল ইনস্টিটিউট কে কার্যকর ভূমিকা পালনের উপর তিনি গুরুতৃবারোপ করে বলেন, নজরুল আমাদের আশার আলো। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, খুব শীঘ্রই এমন দিন আসবে যখন ঘরে ঘরে নজরুল পঠিত হবে, সবাই নজরুলের ভাষায় কথা বলবে।

প্রধান আলোচক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন বলেন, নজরুল একটি আদর্শের নাম, একটি শক্তির নাম।‌সেই শক্তি সবার হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, নজরুল নিয়ে কেবল সাধারণ আলোচনা করলেই হবে না, বরং নজরুল যে সব ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম তা সবার মাঝে তুলে ধরতে হবে।

মোঃ জেহাদ উদ্দিন বলেন, নজরুল বর্তমানের কবি। সব সময় এবং সব দেশে, সবার মাঝেই তিনি প্রাসঙ্গিক এবং অপরিহার্য। তিনি তাঁর দেশ, জাতি তথা সকল মানুষের প্রতি সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কারো সাথেই কোনো ধরনের প্রতারণা করেন নি। বিদ্রোহী কবিতাকে তিনি বিশ্বতোরণে বৈজয়ন্তি মানববিজয়কেতন হিসেবে অভিহিত করে বলেন, সর্ব মানুষের মুক্তি তথা মানুষের জয়গানই নজরুল দর্শনের মূল কথা।

অধ্যাপক কামরুল হাসান বিদ্রোহী কবিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, পবিত্র কোরআনে সূরা আশ-শোয়ারার ২২৪ থেকে ২২৭ নম্বর আয়াতসমূহে একজন আদর্শ কবির যেসব বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলোর সব ক'টিই কাজী নজরুল ইসলামের মধ্যে রয়েছে।

এমদাদুল হক চৌধুরী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সিআরসি শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় কাজ করতে চায়। এ জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিকগণ তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রিয়াদ জাহান রানা বিদ্রোহী কবিতা আবৃত্তি করেন।


(জেহাদ/১৪.১১.২০২২)

Kommentare


পাঠক নিবন্ধন ফর্ম​

জমা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ!

লেখা প্রদানের জন্য মেইল করুন

banglakotha2011@gmail.com

©2025 by Banglakotha

Bangladesh

bottom of page