top of page

বাংলাদেশের কৃষিজ উৎপাদনে ঊশরের বিধান।। অধ্যাপক ডঃ যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক

Updated: May 18, 2021

ফল-ফসলের যাকাতকে উশর বলে। প্রাকৃতিক পানি দ্বারা চাষ করা হলে জমির উৎপাদন হতে ১০% যাকাত দিতে হয়। সেচের মাধ্যমে উৎপাদন করা হলে জমির উৎপাদন হতে ৫% যাকাত দিতে। নিসাবের দুটো হিসাব আছে। প্রায় ১৬ মন বা ২৫ মন। নিসাবের বেশি উৎপাদন হলে উশর দিতে হয় (সাহেবাইনের মত)। বাংলাদেশে উশর প্রদানের চর্চা নেই বললেই চলে, অথচ এটি ফরয ইবাদাহ। রমাদানে যাকাত নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু ফসলের মৌসুমে উশরের কোন আলোচনা নেই। আমি কয়েকজন আলিমের সাথে কথা বলে দেখেছি, বেশিরভাগ আলিম মনে করেন, বাংলাদেশের জমি খারাজি জমি। খারাজি জমিতে উশর আদায় করতে হয় না। এজন্য আলিমগণ উশর আদায়ের কথা বলেন না। তথ্যটি সঠিক, কিন্তু প্রয়োগক্ষেত্র ভুল। বাংলাদেশের সব জমি খারাজি নয়। বিষয়টি বুঝতে হলে খারাজি জমি চিনতে হবে। প্রথম মুসলিম বিজয়ের পর বিজয়ী সেনাপতি যদি বিজিতদেরকে তাদের ভূমিতে বহাল রাখেন, তাহলে তা খারাজি জমি। মুসলিম বিজয়ের পর এদেশের বিজিত হিন্দু বাসিন্দাদের তাদের জমিতে বহাল রাখা হয়েছিল। অতএব তাদের জমিগুলো খারাজি, যদিও সেগুলোর মালিক এখন মুসলিম। কিন্তু বাংলাদেশের সব জমি খারাজি নয়। হিন্দু অধিবাসীদের মালিকানার বাইরে বিপুল জমি অনাবাদি ছিল। অনাবাদি জমিগুলো মুসলিমরা সরকার থেকে বরাদ্দ নিয়ে আবাদ করেছে। এগুলো উশরি জমি। মুসলিম সুলতানগণ বহু জমি লাখেরাজ করে আলিম ওলামা, দরবেশে ও মসজিদের জন্য বরাদ্দ দিয়েছিল। ওগুলো উশরি জমি। মুসলিম বিজয়ের পূর্বে এদেশে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তাদের জমিও উশরি। অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক জমিই মুসলিম বিজয়ের সূচনা হতেই উশরি জমি। এ জমিগুলোর উৎপাদনে উশর আসবে। বাকি রইল মুসলিম আমলের শুরুতে অমুসলিম মালিকানাধীন জমি, যা পরে ক্রয়সূত্রে বা অন্য উপায়ে মুসলিমের হাতে এসেছে। এগুলো খারাজি জমি। কিন্তু এখন এগুলো আর খারাজি নেই। কারণ চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে খারাজ সিস্টেম বাতিল করা হয়। 1952 সালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ করা হলেও খারাজ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হয়নি। মূলত পৃথিবীর কোন মুসলিম দেশেই খারাজ ব্যবস্থা চালু নেই। খারাজ ব্যবস্থায় উৎপাদিত ফসলের সর্বনিম্ন এক পঞ্চমাংশ, সর্বোচ্চ অর্ধেক ফসল সরকার গ্রহণ করত। এখন তা নেই। নামমাত্র খাজনা নেয়া হয়, যা কোনভাবেই খারাজের বিকল্প নয়। এখন বাংলাদেশি মুসলমানরা যদি উশর হতে রেহাই পেতে চায় তবে তাদেরকে খারাজ আদায় করতে হবে, অর্থাৎ উৎপাদনের 20% খারাজ আদায় করতে হবে। তাহলেই কেবল উশর আদায় হতে রেহাই পাওয়া যাবে। তাই খারাজ আদায়ে জটিল ব্যবস্থায় না গিয়ে সরলীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুসলিম মালিকানাধীন সকল জমি হতে উশর আদায় করাই সহজ বিধান। প্রশ্ন হতে পারে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। উশর কীভাবে আদায় করবে? আধুনিক ফকীহগণ মত দিয়েছেন উৎপাদিত ফসলের মূল্য হতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে (সর্বোচ্চ 25%) অবশিষ্ট ফসল নিসাব পরিমাণ হলে উশর আদায় করবে। এভাবে উশর আদায়ের বিষয়টি সহনীয় হতে পারে। ‘বাংলাদেশের জমি খারাজি, তাই উশর দিতে হবে না।’ একথা বলার আর সুযোগ নেই। সম্মানিত আলিমগণ আশাকরি বিষয়টি উপলব্ধি করে জনগণকে সতর্ক-সচেতন করবেন। একটি প্রায় বিস্মৃত ফরয আমল পুনঃচর্চায় ভূমিকা পালন করবেন।

Comments


পাঠক নিবন্ধন ফর্ম​

জমা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ!

লেখা প্রদানের জন্য মেইল করুন

banglakotha2011@gmail.com

©2025 by Banglakotha

Bangladesh

bottom of page