বিস্ময়কর প্রতিভা : কাজী নজরুল ইসলাম
- মো জেহাদ উদ্দিন
- Apr 11, 2021
- 1 min read
বাঙলাকথা সম্পাদকীয়।। জানুয়ারি ২০১৪
বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলাম সবচেয়ে শক্তিশালী ও সর্বাপেক্ষা বিস্ময়কর প্রতিভা। বিশ্বসাহিত্যেও তিনি অদ্বিতীয়। তবে একই সঙ্গে তিনি সাহিত্যের সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত প্রতিভাও। সাহিত্যের এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে তিনি তাঁর বিস্ময়কর ও অতুলনীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেননি। কাব্য, সংগীত, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, নাটক, পত্র সাহিত্য, অভিভাষণ, অনুবাদ সাহিত্য ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি অতুলনীয় অবদান রাখেন।
কাজী নজরুল ইসলাম সাহিত্যিক, সমাজকর্মী, রাজনীতিবিদ, সংবাদপত্রের সম্পাদক ও প্রকাশক, চলচ্চিত্রকার, নাট্যকার, ভারতে ব্রিটিশ-রাজত্বের যবনিকা ঘোষণাকারীÑ লিখিতভাবে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ঘোষণাকারী। মূলত তিনিই বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রযুগের সদর্প যবনিকা টানেন। তা-ও আবার খোদ রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায়ই। সাহিত্য যদি হয় জীবনের জন্যে, মানবতার জন্যে, তাহলে নজরুলের তুল্য দ্বিতীয় কোন প্রতিভা কেবল বাংলা সাহিত্যে কেন, বিশ্ব সাহিত্যেও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
আসলে নজরুল ছিলেন মহামানব। কেবল সাহিত্যে তিনি নিজেকে আবদ্ধ করে রাখেননি। আমরা আগেই বলেছি, তিনি একাধারে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক, ধর্ম সংস্কারক, চলচ্চিত্রকার, আরও কত কী। অথচ কার্যত তাঁর কর্মকাল মাত্র ২২ বছরের। জীবনের শেষ ৩৪ বছর তিনি বিধাতার অদৃশ্য হাতের ইশারায় বাকরুদ্ধ জীবন যাপন করেন। এত অল্প কর্মকালে তিনি যে সম্পদ পৃথিবীকে দিয়ে গেছেন তার তুলনা মহাবিস্ময়কর। কিন্তু আমাদের চরম দুর্ভাগ্য, নজরুল সম্পদের অধিকাংশ বিষয়ই আমাদের অনাবিষ্কৃতই রয়ে গেছে এবং তাঁর সম্পদের যথার্থ কদর আমরা এখন পর্যন্ত করতে পারি নি।
এমন বিস্ময়কর প্রতিভাকে নিয়ে এবারের প্রচ্ছদ রচনা। লিখেছেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ও ইতিহাস-অন্বেষী মেধাবী লেখক মো. জেহাদ উদ্দিন। লেখকের প্রকাশিতব্য ‘ইসলাম ও নজরুল-মানস’ শীর্ষক গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি অবলম্বনে এই নিবন্ধটি তৈরি করা হয়েছে। আশা করি পাঠকদের ভালো লাগবে। জানুয়ারি সংখ্যাটি সময়মতো পাঠকদের হাতে দিতে না পারায় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
Comments