top of page

মোশন সিকনেস (Motion sickness) ।। ডাঃ সাবরিনা শাওন


১.মোশন সিকনেস মানে কি?

উত্তরঃ Motion sickness বলতে ভ্রমণে বমি বমি ভাব,বমি হওয়া বা মাথা ঘুরানোকে বুঝায়। অনেকেরই ভ্রমণের সময় এমনটা হয়ে থাকে।

২.গাড়িতে মোশন সিকনেসের জন্য প্রধানত দায়ী কে?

উত্তরঃ প্রধানত কান, তারপর চোখ দায়ী।

৩. মোশন সিকনেসের জন্য কান ও চোখ কিভাবে দায়ী?

উত্তরঃ কানের কাজ সাধারণত দু’টি - এক. hearing বা শোনা; দুই. balance বা সমন্বয় করা।

আমরা জানি, কানের অন্তঃকর্ণে থাকে কিছু তরল বা fluid জাতীয় জিনিস। যখন আমাদের মাথা নড়ে তখন কানের ভিতরে fluid-টাও নড়তে থাকে। এই মুভমেন্টের সেনসেশনটা vestibulocochlear নার্ভ এর মাধ্যমে ব্রেইনে গিয়ে মুভমেন্টের সেনসেশন হয়। সেই অনুযায়ী ব্রেইন আমাদের balance করার নির্দেশ দেয়।

অন্যদিকে চোখ আবার ব্রেইনকে তথ্য দেয় যে, বডি স্হির আছে। এই ধরনের কন্ডিশনকে ব্রেইন পয়জন হিসাবে গণ্য করে। তাই ব্রেইন সব সময় চাইবে এই পয়জনকে বডি থেকে বের করে দিতে। সেইজন্যে ব্রেইন vegal stimulation করে, যে জন্যে বমি হয়।

৪.গাড়ীতে বমি হওয়ার কারণ কি?

উত্তরঃ উপরের আলোচনা থেকে সহজেই আমরা বলতে পারি যে,গাড়ীতে বমি হয় গতি ও জড়তার ফলে ব্রেইনের সমন্বয়হীনতার কারণে। আমরা যখন গাড়িতে চড়ি তখন অন্তঃকর্ণ মস্তিষ্কে খবর পাঠায় যে সে গতিশীল! কিন্তু চোখ বলে ভিন্নকথা। চোখ বলে যে স্হির আছে। চোখ আর কানের এই সমন্বয়হীনতার কারণেই মোশন সিকনেস হয়।

৫. আর কি কি কারণে গাড়ীতে বমি হতে পারে?

উত্তরঃ এ্যাসিডিটি সমস্যা থাকলে বা বাজে কোনো গন্ধের কারণেও হতে পারে।

৬. তাহলে মুক্তির উপায় কি?

উত্তরঃ

ক) গাড়ির সামনের দিকে বসার চেষ্টা করা। কারণ-পিছনের দিকে বসলে মনে হবে তা বেশি গতিশীল।

খ) জানালার পাশে বসার চেষ্টা করা এবং জানালা খোলা রাখার চেষ্টা করা যাতে বাহিরের বাতাস আসতে পারে। যতটা সম্ভব জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকা এবং গাড়ি যেদিকে যাচ্ছে সেদিকে তাকিয়ে থাকা। কারণ, উল্টা দিকে তাকালে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

গ) অন্য কারোর বমি হওয়া দেখলে নিজেরও যদি বমি বমি ভাব হয়, তাহলে সেদিকে মনোযোগ না দেওয়া।

ঘ) গাড়িতে উঠলে বমি হয় এমন চিন্তা মাথায় না আনার চেষ্টা করতে হবে। সেজন্যে নিজের প্রিয় কিছু জিনিস নিয়ে চিন্তায় ব্যস্ত থাকো যেতে পারে।

ঙ) হালকাভাবে চোখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা।

চ) ভ্রমণের সময় হালকা কিছু খাওয়াই ভালো। বাহিরের ভাজা-পোড়া খাবার যতোটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। এ্যাসিডিটি হয় এমন খাবার না খাওয়ায় ভালো।

ছ) চলন্ত গাড়িতে বই পড়া, ফোন চালানো ইত্যাদি থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করা।

জ) আদা, দারুচিনি, টক ফল, গরম লেবুর পানিতে একটু লবণ মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া, লেবু ও কমলা পাতার গন্ধ শুকা যেতে পারে। তবে এ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে লেবু না খাওয়াই ভালো। মুখে লবঙ্গ রাখা যেতে পারে। এ্যাসিডির সমস্যা থাকলে পুদিনা পাতার চা পান করা যেতে পারে।

ঝ) যাত্রা বিরতি নেওয়া।

ঞ) চুইংগাম চিবানো।

এসবের পাশাপাশি মেডিকেল ব্যবস্হাপনাও নেয়া যেতে পারে। যেমন-যদি ইতোমধ্যে বমি হয়ে যায় তাহলে Tab. Emistat 8mg or Tab. Motigut 10 mg খেতে হবে। অন্যদিকে যাদের মোশন সিকনেসের সমস্যা আছে তারা যাত্রার ১ ঘন্টা আগেই Tab.Vomec 50 mg অথবা যাত্রার ৩০ মিনিট আগে Tab. Joytrip 300 mcg খেয়ে নিতে পারেন।


ডাঃ সাবরিনা শাওন, এমবিবিএস, রংপুর মেডিকেল কলেজ।

Comentários


পাঠক নিবন্ধন ফর্ম​

জমা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ!

লেখা প্রদানের জন্য মেইল করুন

banglakotha2011@gmail.com

©2025 by Banglakotha

Bangladesh

bottom of page