সম্পর্কের যত্নঃ স্বাস্থ্যকর ও অস্বাস্থ্যকর প্রয়োগ।। অর্পিতা দাস
- অর্পিতা দাশ
- May 1, 2021
- 2 min read
Updated: May 11, 2021
আমরা পরিবারে, সমাজে অনেক মানুষের সাথে নানান সম্পর্কে সম্পর্কিত। এই প্রতিটা সম্পর্কে ই যত্নের প্রয়োজন হয়। যত্ন ছাড়া এই সম্পর্ক গুলো পূর্নতা পায় না। আমার একজন শিক্ষক বলেছিলেন সম্পর্ক হলো টবে লাগানো গাছ, পরিচর্যা না পেলে বাচেঁ না। তাই আমরা প্রতিনিয়ত সম্পর্কের পরিচর্যা করে চলি। তবে এই পরিচর্যা উভয়মুখী হতে হবে।

আমাদের সন্তান যখন ছোট থাকে হাটতে পারে না, নিজে হাতে খাবার খেতে পারে না, একঘর হতে অন্যঘরে যেতে ভয় পায়। মায়ের আঙ্গুল ধরে চলাফেরা করে তখন মায়েদের দায়িত্ব হলো সন্তানকে সার্বক্ষণিক আগলে রাখা, যেন সে ব্যাথা না পায়, খাবার ভেবে অন্যকিছু মুখে দিয়ে না ফেলে বা ভয় পেয়ে চিত্কার করে না ওঠে। তারপর যখন সে আরেকটু বড় হয়, স্কুলে যায় তখন যত্নের ধরনটা বদলায়। সন্তানকে পুষ্টিকর খাবার প্রদান, খেলাধুলা করার সুযোগ তৈরী করে দেয়া, পড়াশুনায় সাহায্য করা, পড়াশুনার বাইরে উন্নত মানবিক গুনাবলী গঠনের বিষয়গুলোতে সুযোগ তৈরী করে দেয়া। এরপর বয়ঃসন্ধিতে যখন তার শারীরিক ও মানসিক নানান ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করে তখন সেগুলো সম্পর্কে তাকে সচেতন করা এবং মানসিক ভাবে তার পাশে থাকা একটা গুরুত্বপূর্ণ পরিচর্যা।
কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বাবা মায়েরা ইমোশনাল হয়ে যত্নের নামে অনেক বাড়াবাড়ি করে ফেলেন। বাচ্চাটা হয়তো আর খেতে চাচ্ছে না তবুও মা জোর করে খাওয়াবেন, হয়তো বলবেন, আমি তো মা আমি বুঝি, আমার বাচ্চার কতটুকু খাবার প্রয়োজন। আবার এটাও দেখি যে ১৬/১৭ বছরের ছেলে ও লেভেল দিবে সে এখনো নিজ হাতে খায় না। মা তাকে খাইয়ে দেন। আবার বাবা হয়তো বাচ্চা যখন যা চাচ্ছে সবকিছুই তাকে কিনে দিচ্ছে, ফলে সে না বুঝে টাকার মর্যাদা, না থাকে অতৃপ্ত কোনো ইচ্ছা যেটা তাকে বড় হয়ে লক্ষ্য অর্জনের দিকে ধাবিত করবে।
আমরা অবশ্যই অত্যন্ত যত্নের সাথে আমাদের সন্তান লালন পালন করবো। কিন্তু আমাদের মুল উদ্দ্যেশ্য হলো সন্তানকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা। যেন সে সমাজে খাপ খাইয়ে চলতে পারে। আমাদের অনুপস্থিতিতে হোচঁট না খায় এবং দায়িত্ব নিতে শিখে। সেজন্য তার যেরকম যত্নের দরকার সেটাই হলো স্বাস্থ্যকর যত্ন। আর যে যত্নগুলো তাকে নির্দিষ্ট বয়সে ও আত্মনির্ভরশীল করছে না,দীর্ঘদিন পর্যন্ত মা বাবার উপর বিভিন্ন বিষয়ে নির্ভরশীল করে রাখছে, দায়িত্ব নিতে শেখাচ্ছে না সেগুলো ই অস্বাস্থ্যকর যত্ন।
আমরা অবশ্যই আমাদের সন্তানদের স্বাস্থ্যকর যত্নই করবো।
আরেকটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর যত্নটা বড্ড বেশী দরকার সেটা হলো স্বামী -স্ত্রীর সম্পর্কে। আমাদের সমাজে স্বামী স্ত্রী র সম্পর্কটা একটু সেকেলে অর্থাৎ স্বামী নিজেকে অভিভাবক বা নিয়ন্ত্রণ কারী মনে করেন আর স্ত্রী কে নির্ভরশীল বা নিয়ন্ত্রিত হিসেবে ধরে নেয়া হয় (অবশ্য ব্যতিক্রম ও আছে)। তাই অনেক সময় " তুমি একা যেতে পারবে না, এটা পরিশ্রমের কাজ তুমি পারবে না, এটা অনেক বড় ব্যাপার তুমি বুঝবে না বা ম্যানেজ করতে পারবে না " এই জাতীয় যত্নের কথাবার্তা প্রায়ই শুনতে হয়। স্বামী কিন্তু টেক কেয়ার করার উদ্দ্যেশ্যেই এই কথাগুলো বলছেন কিন্তু আমরা নিশ্চয়ই জানি পরিমাপটা যদি সমান সমান না হয়ে বড় ছোটতে হতে থাকে তাহলে অসন্তোষ জমতে থাকে। একসময় শ্রদ্ধা বোধটা আর থাকে না। তাই যদি যত্ন করতেই হয় তবে যেখানে খামতি আছে সে জায়গায় effort দিয়ে তাকে টেনে তুলুন। সেটা হতে পরে নিজের আবেগ ম্যানেজ করার দক্ষতা বা কোনো ইভেন্ট কে ম্যানেজ করার দক্ষতা। এই যত্নটা একবার করতে পারলে সারাজীবন আর টেক কেয়ার করে যেতে হবে না।
সমাজের প্রতিটা সম্পর্কে র যত্নই যেন স্বাস্থ্যকর যত্ন হয় এই কামনা করি।
Commenti