সরদার সাবকে নিয়ে দুটি কথা।। আহমেদ হোসেন
- আহমেদ হোসেন
- May 1, 2021
- 2 min read
Updated: May 11, 2021
সরদার সাব মানে সরদার ফজলুল করিম(১৯২৫- ২০১৪)। আজ তাঁর ৯৬ তম জন্মবাষিকী।তিনি তাঁর আত্মজীবনীর শুরতেই বলেছেন, " বর্তমান বা্যলাদেশে জিজ্ঞাসু যে প্রজন্ম, তাকে আমি কি দিতে পারি? আমি বড় পন্ডিতরনই,বড় প্রফেসর নই,বড় গবেষক নই।এমন আমি, কি দিতে পারি আমার পরবর্তী প্রজন্মকে? আমি দিতে পারি আমার জীবনটাকে।" ১৮ বছরের যুবক কলকাতার মেহাম্মদী পত্রিকায় ' ফায়ারম্যান' নামের গল্প, দুর্ভিক্ষের প্রতিলিপি আর প্রতিরোথ পত্রিকায় প্রবন্ধ লিখতে শুরু করেন।ফ্যাসিবাদীদের হাতে সোমেন চন্দের হত্যাকান্ড তাঁকে ভেতর থেকে নাড়া দিয়ে যায়। সরদার প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন।পরে দর্শন বিভাগের শিক্ষক হরিদাস ভট্টাচার্যের লেকচারে মুগ্ধ হয়ে ভর্তি হন দর্শনশাস্ত্রে।দর্শনের পাঠ নিলেও জনগণের মাঠ ছাড়েননি।কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী হিসাবে দুর্ভিক্ষকালীন ত্রানকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন সহযোদ্ধাদের সাথে। বামপন্থী রাজনীতিতে যুক্ততার প্রয়োজনে বিলেতের আকর্ষণীয় স্কলারশিপ প্রত্যাখ্যান করেন অবলীলায়। ১৯৪৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে লেকচারার হিসাবে ক্লাস নিতে শুরু করেন, যদিও ১৯৪৮ সালে রাজনীতির কারণে স্বচ্ছামূলকভাবে শিক্ষকতা থেকে ইস্তফাও দেন। বাম রাজনীতি করতে গিয়ে সরকারের রোষানলে পড়ে দীর্ঘ ১১বছর জেল খাটেন।কারাজীবনকেও তিনি মনে করেন জীবনবোধের পাঠশালা।আবার জেলে বসেই ১৯৫৪ সালে পাকিস্তান সংবিধান সভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালে পূণরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপনা করেন।এ বিভাগের বিষয়ে জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাকের আনুকূল্যের কথা স্মরণ করে তিনি লিখেন, ' আমি রাজ্জাক স্যারকে বলেছিলাম, ' স্যার, আমি তো দর্শনের লোক। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তো আমার এম এ নেই।আপনি আমাকে এখানে কেন নিয়ে এলেন? ' রাজ্জাক সাহেব আমাকে উত্তরে বলেছিলেন, ' আপনি ফিলোসফির ওপড় কী সব লেখালেখি করছিলেন না? ওইগুলো আমার দরকার।' সরদার সাব অনূদিত ও ভাষ্যদানকৃত তর্শনকোষ, প্লেটোর সংলাপ, প্লেটোর রিপাবলিক, অ্যারিষ্টটলের পলিটিকস, এঙ্গেলসের অ্যান্টি ডুরিং, রুশোর সেশাল কন্ট্রাক এর মতো,দররশন রচনা যেমন আমাদের সামগ্রিক চিন্তাজগতের সম্পদ,তেমনি নানাকথা, রুমির আম্মা,নূহের কিশতির মতো বইগুলো,আমাদের সাহিত্যের অমূল্য সংযোজন। আত্মজীবনীর শেষাংশে এই জীবনসাধক বলেছেন, তিনি মুত্যুময় পৃথিবীতে জীবনের অব্যাহত জয়যাত্রায় বিশ্বাসী। মানবতার জয়গানকারী এই মহান মহৎ মানুষটির জন্মবাষিকীতে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।লাল সালাম।
Comentarios